এই আমি নই আমি

আজ তেত্রিশ দিন হলো আমি ফেইসবুকে ‘ফারহা সিমি’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছি। ‘ফারহা’ বা ‘সিমি’Ñ কোনো নামেই আমি কাউকে চিনি না। তবে এটা জানি যে এই নামগুলো শোনা যায় এর-ওর মুখে। তাই হয়ত কোনো কথোপকথনের স্মৃতি ফুঁড়ে নামদুটো আমার সামনে ভেসে উঠেছিল। দুটো নামকে কেবল সন্ধি করে আমি অ্যাকাউন্টটা খুলে ফেললাম। এরকম একটি ভুয়া আইডি কেন খুললাম, বলতে পারব না।


নামনিগ্রহ

মাদল হাসান তখন মাগরেবের আজান ধ্বনিত হ’লো আশপাশের সবকটা মসজিদে। মন্দিরের কাছের বাড়ির বাসিন্দারা উলুধ্বনিও স্পষ্ট শুনতে পেল। সকল পর্যালোচনার পূর্বে ধর্মেও প্রসঙ্গটি সেরে নিতে হ’লে বলতে হয়, ‘দেনা-পাওয়া’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কাব্যোত্তীর্ণ নাম রাখে, যেমন যৌতুক তাড়িত নিরুপমা। কিন্তু তার আগে কার্তিক-গণেশ-পার্বতী নামই চালু ছিল। তেমনি, মুসলমানরাও শিক্ষিত হার পর নানা রকম কাব্যিক নাম রাখেন। কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে-মফস্বলে এখনও অধিকাংশ নাম রাখা হয় আল্লাহর নামের সিফতে। যেমন, করিম-রহিম-জব্বার-সালাম-বরকতইত্যাদি। কিন্তু তাতে প্রগতির পথে কি কোনো বাধা সৃষ্টি হয়? কাব্যিক নামেই বা কী ক্ষতি? কিন্তু সর্বমঙ্গলার্থেই কি ধর্মেও কল বাতাসে নড়েনা? অথচ অধর্মবাতাসও বয়ে চলে সমান তড়াসে। ধর্মবনানী তাতে থেকে থেকে কেঁপে কেঁপে ওঠে।


হেমন্তের বৃষ্টি

আরফান আহমেদ হেমন্তে কোন একদিন অবিরাম বৃষ্টি ঝরতে থাকে। সারাদিন সারারাইত। বৃষ্টি পরে। কেমন জেনো ভেজা ভেজা লাগে দমকা বাতাস ছাড়ে, ফ্ল্যাট বাড়িটার উপরের তলার দিকে যেইখানে ব্যালকনিটার ধারে সুপারি গাছটা হেলান দিয়া থাকে সে মাথা দুলাইতে থাকে শীতের গন্ধ লাইগা থাকে বাতাসে। অনেকদিন গরম থাকনের পরে বৃষ্টি আসলে শহরের প্রতি আমাদের প্রেম ভাব একটু বেশি জাগে বিছানাটা কেমন জানি নরম নরম লাগতে থাকে। আর ঐ দিকে বৃষ্টি অবিরাম চলে। নিয়ম মাফিক খিচুড়ি খাইতে ইচ্ছা হইতে পারে। ঘরে চাল নাই। কিন্তু সাদা ফ্ল্যাটবাড়িটার ভিতরেএকটা হাহাকার আছে।


মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম: উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ইসলামকে প্রতিপক্ষ করা হয়

মুনির আহমদ বাংলাদেশে প্রথম সারির জনপ্রিয় কয়েকজন শক্তিশালী লেখকের নাম বলতে গেলে এই সময়ে পিনাকী ভট্টাচার্যের নাম তালিকার শুরুর দিকেই থাকবে। যারা দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে চান, সমাজ ও আদর্শ নিয়ে ইতিবাচক কিছু গড়তে চান, পিনাকী ভট্টাচার্যের চিন্তা ও লেখা তাদের জন্য চমৎকার পথনির্দেশক হবে নিশ্চয়। সোশ্যাল মিডিয়াসহ বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র, শিক্ষক, লেখক, রাজনীতিবিদসহ সর্বমহলে পিনাকী ভট্টাচার্য তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত এক ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে ইসলাম বিদ্বেষী বাম সেক্যুলার মহলেও পিনাকী ভট্টাচার্য সাক্ষাৎ এক আতংকের নাম।


চেনা মানুষকে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে

মাদল হাসান ফয়সাল রায়হান পুরুষতান্ত্রিকতার ঘোর বিরোধী। নারীমুক্তি, নারী-অধিকার, নারী-পুরুষের সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন এ-সবই তাঁর সারা-জীবনের ধ্যান-জ্ঞান। সারাজীবন যেন তবু নয়। কেননা, কতই-বা বয়স তাঁর। সবে তো মধ্যবয়সী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে, তারুণ্যেও শুরুতেই সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি ছাত্রনেতাদের সংস্পর্শে এসেছিল। ঠিক তেমন-তেমন সময়ে সুজলা শারমীনও ঐ সময়ের নারী নেত্রীদের সংস্পর্শে আসে। সুজলা শারমীন উদ্বুদ্ধ হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা রেহনুমা আহমেদের দ্বারা। তখনই তাঁর যাতায়াত শুরু হয় ‘দৃক-গ্যালারি’-তে। ঢাকার রিকশাঅলা-নামে একটা সলো একজিভিশনও হয় তাঁর। আর সেই একজিভিশনেই তরুণ ছাত্রনেতা ফয়সাল রায়হানের সঙ্গে সুজলার সাক্ষাত, পরিচয়, সখ্য এবং অবশেষে প্রেম ও পরিণয়।


কলম

আফসানা বেগম দুনিয়ায় এত জায়গা থাকতে মানুষের অতৃপ্ত আত্মা পুরোনো বইয়ের ঘিঞ্জি বাজারে ঘুরে বেড়ানোর কথা কেউ শুনেছে কখনো? বইয়ের পোকা যেমন থাকে, থাকে বইয়ের ভূতও। বেশ আগের কথা। ঘটনা হয়েছিল যে তিনদিন ধরে আমার হাতে একটা কলম আটকে গেছে। লম্বা হাতার জামা পরে কোনোরকমে ঢেকে রাখছিলাম। কিন্তু ওভাবে কতক্ষণ চলা যায়? কতভাবে ঝাড়াঝাড়ি করলাম, কলম যেই আর সেই, ভাগ্যরেখা বরাবর আটকে ছিল। কোনো উপায় না দেখে যার কাছ থেকে একদিন ওই কলমটা কিনেছিলাম তার কাছেই গেলাম। ভাবলাম দেখি সেই দোকানদার কোনো উপায় বলতে পারে কি না।


মকছেদ অালীর লাল ঘোড়া

অাশানুর রহমান খোকন কয়েকমাস পরে জুম্মার নামাজে গেলে শুনতে পেলাম রমজান হুজুরের নামাজ পড়ানো ছহীহ্ নন, তিনি খুৎবা পাঠও নাকি যথাযথ করেন না, তাই নতুন হুজুর এখন থেকে জুম্মার নামাজও পড়াবেন। এভাবেই রমজান হুজুরকে মক্তব ও মসজিদের দায়িত্ব খেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। অামরা অবশ্য ছহীহ্, যথাযথ খুৎবা পাঠ এসব বিষয় বুঝতাম না। এভাবেই কিছু কিছু জিনিষ অাস্তে অাস্তে পাল্টে যাচ্ছিল। অামাদের মাদ্রাসায় একদিন হুজুর বললেন, 'মকছেদ অালীর খানকাহ্ একটা বেদাত জিনিষ। ইসলাম ধর্মে এসব নিষেধ'।


ঝরা বকুলের গল্প

অাশানুর রহমান খোকন বললাম-- --'অামার কাজ কোনভাবেই অাপনার জীবনের গল্পের থেকে বড় হতে পারে না। অাপনি বলুন।' সেই প্রায় অন্ধকার রাতে পশুর নদীর তীর ঘেঁষে ঘেঁষে অামরা হাঁটতে থাকি অার দাদা বলতে থাকেন--- "যশোরে অামি ছাত্র সংগঠন, কৃষক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন একাধারে সব কিছুই দেখতাম। অামাদের সংগঠন ছোট। দলের পরিচিতিও বেশী না। তাছাড়া যশোরে এত এত বামপন্থী দলের শক্তিশালী অবস্থান, সেখানে অামাদের দলের একটি অবস্থান তৈরী করা, অন্য দলের সাথে অামাদের পার্থক্য জনগণকে বোঝানো তো সহজ ছিল না। তবু অামরা একটু একটু করে শক্তি সঞ্চয় করছিলাম।"


পরমেশ্বরকে নিয়া আমার বানায়া ব’লা গল্প ( দ্বিতীয় পর্ব)

মুনশি বিশ্বজিৎ ঢাকা শহর - কি কও মিয়া... দুনিয়া জুইড়া সব মাইয়া হইলো খবিস। আমি তো খুব কেয়ারফুল থাকি। গত মাসে বুঝছো-- হংকং থিকা ভ্যঙ্কুভার যাইতেছিলাম। সাড়ে ১৩ ঘণ্টার ফ্লাইট। দুই রাত ঘুমাই নাই, কি যে টায়ার্ড আছিলাম। ভাবলাম ফ্লাইটে উইঠা একটা ঘুম দিমুনে। আমার সিট পড়ছে বুঝলা থ্রি সিটের রোএর মাঝখানে, আর আমার দুই পাশে দুই রমণী। এলায় চিন্তা কইরা দেখো আমার অবস্থা...।


পরমেশ্বরকে নিয়া আমার বানায়া ব’লা গল্প

মুনশি বিশ্বজিৎ নাউ ইটস অফিশিয়াল। দীর্ঘ শীতের মৌসম শেষ। গত এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থিকা টরন্টোতে অফিশিয়ালি শুরু হইছে স্প্রিং সীজন। প্রতি বছর যেই রকম হয়-- সেই ভাবে গত নভেম্বরের মাঝ থিকা ঠান্ডা নামতে থাকা শুরু হইছিল, আর ক্রমশ এক অন্তহীন হিমশীতল গহ্বরের অতলে গোটা শহরটা তলায়া যাইতেছিল।


গল্প/উপন্যাস

READ MORE

এই আমি নই আমি

আজ তেত্রিশ দিন হলো আমি ফেইসবুকে ‘ফারহা সিমি’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছি। ‘ফারহা’ বা ‘সিমি’Ñ কোনো নামেই আমি কাউকে চিনি না। তবে এটা জানি যে এই নামগুলো শোনা যায় এর-ওর মুখে। তাই হয়ত কোনো কথোপকথনের স্মৃতি ফুঁড়ে নামদুটো আমার সামনে ভেসে উঠেছিল। দুটো নামকে কেবল সন্ধি করে আমি অ্যাকাউন্টটা খুলে ফেললাম। এরকম একটি ভুয়া আইডি কেন খুললাম, বলতে পারব না।

কবিতা

READ MORE

মারুফ বরকতের কাব্যিপনা

ছোলাবাটার ঘন ক্বাথ জ্বাল দিয়ে যাচ্ছি লাভার মত বুদবুদ ওগড়ানো অচিন ও অদৃশ্য আগুন চামচ ধরা হাতে ফোস্কা ফেলে অবিরত মনের ভেতর ঘাই মারে বর্ষিয়ান মহাশোল চিনি দিলেই মিষ্টি হয়না দাহ্য ক্লেদ বলে ফেললেই হয়ে ওঠে না আশু সমাধান

অনুবাদ

READ MORE

অনেক দিন আগের কথা

মনে হলো কাঠের মেঝের উপরে যেন ধীর অথচ একটির পর একটি পা ফেলার তীক্ষè শব্দ! আমি শুনে যেতে লাগলাম। গভীর মনোযোগ দিয়ে কান খাড়া করে রাখলাম। আবার পা ফেলার শব্দ। থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন করে শোনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। ভালো করে বোঝার চেষ্টা করছিলাম, পায়ের শব্দটি কি এঘর ওঘর ঘুরে শেষে আমার দরজার দিকেই এগোচ্ছে?

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা