কলম

দুনিয়ায় এত জায়গা থাকতে মানুষের অতৃপ্ত আত্মা পুরোনো বইয়ের ঘিঞ্জি বাজারে ঘুরে বেড়ানোর কথা কেউ শুনেছে কখনো? বইয়ের পোকা যেমন থাকে, থাকে বইয়ের ভূতও। বেশ আগের কথা। ঘটনা হয়েছিল যে তিনদিন ধরে আমার হাতে একটা কলম আটকে গেছে। লম্বা হাতার জামা পরে কোনোরকমে ঢেকে রাখছিলাম। কিন্তু ওভাবে কতক্ষণ চলা যায়? কতভাবে ঝাড়াঝাড়ি করলাম, কলম যেই আর সেই, ভাগ্যরেখা বরাবর আটকে ছিল। কোনো উপায় না দেখে যার কাছ থেকে একদিন ওই কলমটা কিনেছিলাম তার কাছেই গেলাম। ভাবলাম দেখি সেই দোকানদার কোনো উপায় বলতে পারে কি না।


মকছেদ অালীর লাল ঘোড়া

অাশানুর রহমান খোকন কয়েকমাস পরে জুম্মার নামাজে গেলে শুনতে পেলাম রমজান হুজুরের নামাজ পড়ানো ছহীহ্ নন, তিনি খুৎবা পাঠও নাকি যথাযথ করেন না, তাই নতুন হুজুর এখন থেকে জুম্মার নামাজও পড়াবেন। এভাবেই রমজান হুজুরকে মক্তব ও মসজিদের দায়িত্ব খেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। অামরা অবশ্য ছহীহ্, যথাযথ খুৎবা পাঠ এসব বিষয় বুঝতাম না। এভাবেই কিছু কিছু জিনিষ অাস্তে অাস্তে পাল্টে যাচ্ছিল। অামাদের মাদ্রাসায় একদিন হুজুর বললেন, 'মকছেদ অালীর খানকাহ্ একটা বেদাত জিনিষ। ইসলাম ধর্মে এসব নিষেধ'।


ঝরা বকুলের গল্প

অাশানুর রহমান খোকন বললাম-- --'অামার কাজ কোনভাবেই অাপনার জীবনের গল্পের থেকে বড় হতে পারে না। অাপনি বলুন।' সেই প্রায় অন্ধকার রাতে পশুর নদীর তীর ঘেঁষে ঘেঁষে অামরা হাঁটতে থাকি অার দাদা বলতে থাকেন--- "যশোরে অামি ছাত্র সংগঠন, কৃষক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন একাধারে সব কিছুই দেখতাম। অামাদের সংগঠন ছোট। দলের পরিচিতিও বেশী না। তাছাড়া যশোরে এত এত বামপন্থী দলের শক্তিশালী অবস্থান, সেখানে অামাদের দলের একটি অবস্থান তৈরী করা, অন্য দলের সাথে অামাদের পার্থক্য জনগণকে বোঝানো তো সহজ ছিল না। তবু অামরা একটু একটু করে শক্তি সঞ্চয় করছিলাম।"


পরমেশ্বরকে নিয়া আমার বানায়া ব’লা গল্প ( দ্বিতীয় পর্ব)

মুনশি বিশ্বজিৎ ঢাকা শহর - কি কও মিয়া... দুনিয়া জুইড়া সব মাইয়া হইলো খবিস। আমি তো খুব কেয়ারফুল থাকি। গত মাসে বুঝছো-- হংকং থিকা ভ্যঙ্কুভার যাইতেছিলাম। সাড়ে ১৩ ঘণ্টার ফ্লাইট। দুই রাত ঘুমাই নাই, কি যে টায়ার্ড আছিলাম। ভাবলাম ফ্লাইটে উইঠা একটা ঘুম দিমুনে। আমার সিট পড়ছে বুঝলা থ্রি সিটের রোএর মাঝখানে, আর আমার দুই পাশে দুই রমণী। এলায় চিন্তা কইরা দেখো আমার অবস্থা...।


পরমেশ্বরকে নিয়া আমার বানায়া ব’লা গল্প

মুনশি বিশ্বজিৎ নাউ ইটস অফিশিয়াল। দীর্ঘ শীতের মৌসম শেষ। গত এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থিকা টরন্টোতে অফিশিয়ালি শুরু হইছে স্প্রিং সীজন। প্রতি বছর যেই রকম হয়-- সেই ভাবে গত নভেম্বরের মাঝ থিকা ঠান্ডা নামতে থাকা শুরু হইছিল, আর ক্রমশ এক অন্তহীন হিমশীতল গহ্বরের অতলে গোটা শহরটা তলায়া যাইতেছিল।


একটি খুন ও হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক নিয়ে বাঙালী তিন সাহিত্যিকের বক্তব্য

অাশানুর রহমান খোকন স্বাভাবিকভাবেই স্বামী শ্রদ্ধানন্দ মুসলিমদের অন্যতম প্রধান শত্রুতে পরিণত হন এবং পরিণামে ১৯২৬ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর দিল্লীতে নিজের বাড়ী অাব্দুর রশিদ নামের এক উগ্র মুসলিমের হাতে মারা যান। সে ঘটনা ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং বাঙালী তিন সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের অবস্থান নিয়ে পরের লেখায় অালোচনা করবো।


গুপ্তপ্রণয়

সায়ান তানভি যৌবন লুপ্ত আলমাসের সামনে ভিড় করা জরাগ্রস্ত বেশ্যাদের জটলা পেরিয়ে সার্কিট হাউজের দেয়াল ঘেঁষা ফুটপাতে উঠে এলাম। জনশূন্য ফুটপাত, শুধু কিছু বৃহৎ গোল বাদাম পাতা পড়ে আছে আর কয়েকটা মধ্যবয়সী কালো কুকুর। মৃদুমন্দ নরম বাতাস শরীরে কাঁপন সৃষ্টি করছে সুখদ। মাঝরাতের শব্দহীন তুলতুলে বাতাস যেন বঙ্গোপসাগরের বুকে চুপচাপ শুয়ে থাকা নির্জন কুকরি মুকরির কৌমুদীস্নাত হাওয়া, নির্লিপ্ত, শান্ত আর দূঃখ ভারাক্রান্ত অথবা মৌন।


মীর হাবীব আল-মানজুরের ৪ টি কবিতা

মীর হাবীব আল-মানজুর প্রাতিস্বিক সারল্যে ভাবছিলাম কাটবে জীবন, অথচ গরল আর মৃণালে ভরা বিকারগ্রস্ত প্রতিসর আঁধারে জারি হয়েছে মৃত্যুর সমন; সহস্র ময়াল খেলছে, যেন এ গ্রোটেস্ক মনস্তত্ত্ব।


শীর্ষেন্দুর দূরবীন

শেখ কান্তা রেজা হেমকান্ত, রঙ্গময়ী, কৃষ্ণকান্ত, ধ্রুব আর রেমি- দূরবীনে চোখ রেখেছে এই ক'টি মূল চরিত্র, বাকিগুলো দোহারের মত সঙ্গত দিয়েছে পুরো কাহিনী জুড়ে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর "দূরবীন" উপন্যাসে তিনটি প্রজন্মকে তুলে এনেছেন এক মলাটে।


Nil Battey Sannata : মা-মেয়ে যখন ক্লাসমেট

কাউসার আলম যখন অমিতাভ বচ্চন, আমির খানের মতো সুপারস্টারররাও সিনেমাটি সাজেস্ট করে টুইট করেন, তখন নিশ্চয়ই একজন ডেব্যুট্যান্টের আকাশে ভাসার কথা। বলাবাহুল্য, লিডিং এক্ট্রেস হিশাবে সারা ভাস্করেরও প্রথম সিনেমা এটি। কিন্তু অভিনয় ছিল অসাধারণ।


গল্প/উপন্যাস

READ MORE

কলম

দুনিয়ায় এত জায়গা থাকতে মানুষের অতৃপ্ত আত্মা পুরোনো বইয়ের ঘিঞ্জি বাজারে ঘুরে বেড়ানোর কথা কেউ শুনেছে কখনো? বইয়ের পোকা যেমন থাকে, থাকে বইয়ের ভূতও। বেশ আগের কথা। ঘটনা হয়েছিল যে তিনদিন ধরে আমার হাতে একটা কলম আটকে গেছে। লম্বা হাতার জামা পরে কোনোরকমে ঢেকে রাখছিলাম। কিন্তু ওভাবে কতক্ষণ চলা যায়? কতভাবে ঝাড়াঝাড়ি করলাম, কলম যেই আর সেই, ভাগ্যরেখা বরাবর আটকে ছিল। কোনো উপায় না দেখে যার কাছ থেকে একদিন ওই কলমটা কিনেছিলাম তার কাছেই গেলাম। ভাবলাম দেখি সেই দোকানদার কোনো উপায় বলতে পারে কি না।

কবিতা

READ MORE

মারুফ বরকতের কাব্যিপনা

ছোলাবাটার ঘন ক্বাথ জ্বাল দিয়ে যাচ্ছি লাভার মত বুদবুদ ওগড়ানো অচিন ও অদৃশ্য আগুন চামচ ধরা হাতে ফোস্কা ফেলে অবিরত মনের ভেতর ঘাই মারে বর্ষিয়ান মহাশোল চিনি দিলেই মিষ্টি হয়না দাহ্য ক্লেদ বলে ফেললেই হয়ে ওঠে না আশু সমাধান

অনুবাদ

READ MORE

অনেক দিন আগের কথা

মনে হলো কাঠের মেঝের উপরে যেন ধীর অথচ একটির পর একটি পা ফেলার তীক্ষè শব্দ! আমি শুনে যেতে লাগলাম। গভীর মনোযোগ দিয়ে কান খাড়া করে রাখলাম। আবার পা ফেলার শব্দ। থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন করে শোনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। ভালো করে বোঝার চেষ্টা করছিলাম, পায়ের শব্দটি কি এঘর ওঘর ঘুরে শেষে আমার দরজার দিকেই এগোচ্ছে?

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা