রামপালের ছাই-বর্জ্য প্রাণীর প্রজননে প্রভাব ফেলবে

স্টাফ রিপোর্টার, দুরবিন ডটকম

রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের ছাই বর্জ্য প্রাণীর প্রজননে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। এতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

বুধবার (১৭ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের প্রফেসর ড. বদরুল ইমাম এ কথা বলেন। ‘রামপাল তাপ বিদ্যুত প্রকল্পের কয়লার ছাই অপসারণে সম্ভাব্য বিপদাপন্ন পরিবশ নিরূপন প্রতিবেদন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

আমেরিকার এ. ডেনিস লেমলি’র ‘বাংলাদেশের রামপালে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুত কোম্পানীর প্লান্টের কয়লার ছাই অপসারণ ও ব্যবস্থাপানার পরিবেশগত বিপদ/ঝুঁকি মূল্যায়ন’ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে এ. ডেনিস লেমলি’র গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের প্রফেসর ড. বদরুল ইমাম বলেন, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের ছাই বর্জ্য প্রাণীর প্রজননে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। এতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রামপালে প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রটি ৯০ ভাগ উৎপাদন দক্ষতায় ৬০ বছর কর্মক্ষম সময়ে ৩৮ মিলিয়ন টনেরও বেশী ছাই উৎপাদন করবে। ‘ছাই পুনঃব্যবহার পরিকল্পনা’ অনুসারে শুধুমাত্র কয়লার ছাইয়ের একটি মাত্র অংশ গৃহস্থালীর কনক্রিট ও ইট তৈরির কারখানায় ব্যবহার করা হবে। এ থেকে বুঝা যায় যে, অর্ধেক ফ্লাই অ্যাস সিমেন্ট ও ইট তৈরিতে ব্যবহার করলেও ছাই বর্জ্য রাখার পুকুরটি ১২ বছরে পূর্ণ হয়ে যাবে। আরও কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন টন ছাই অপসরণের জন্য বাকী থাকবে। তা কোথায় ডাম্পিং করা হবে তা উল্লেখ নাই।

গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে তিনি আরও বলেন, রামপাল কেন্দ্র থেকে ছাই বর্জ্যগুলো হবে ফ্লাই অ্যাস, বটম অ্যাস, স্কবার স্লাজ ও বয়লার স্লাগ। এই ছাই বর্জ্যে থাকবে আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, লেড বা সিসা, পারদ, সেলিনিয়াম ও থালিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু। ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকা থেকে আমদানী করা ১৫ শতাংশ ছাই উৎপন্নকারী কয়লা ব্যবহার করলে ছাই বর্জ্যের পুকুর ১২ বছরে পূর্ণ হয়ে যাবে। ভারত থেকে আমদানী করা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ ছাই উৎপন্নকারী কয়লা ব্যবহার করলে তা ছয় বছরে পূর্ণ হয়ে যাবে।

বদরুল ইমাম জানান, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের ছাই মাছ ও বন্য প্রাণীর ওপর অবশ্যম্ভাবী মারাত্মক বিষক্ততা সৃষ্টি করবে। প্রস্তাবিত ছাই অপসারণের পদ্ধতি মারাত্মক পরিবশেগত দূষণের সৃষ্টি করবে। যা সুন্দরবনের চারিদিকের বন্যপ্রাণীর জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আবুল বাশার বলেন, রামপালের তাপবিদ্যুত কেন্দ্রর কয়লার ছাই বর্জ্যে থাকা সেলিনিয়ামের বিষাক্ততায় পোনামাছ নানা রকম আকৃতিগত বিকৃতি নিয়ে জন্ম নেয়। যাকে টেরাটোজেনিক বিকৃতি বলে, যা প্রাণঘাতি। এই ছাই বর্জের দূষণ আঞ্চলিক প্রজাতিগুলোর বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মূল বক্তব্যের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল আজিজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, ওয়াটার কিপার বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল প্রমুখ। আর সভাপতিত্ব করেন সৃন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৯ ঘণ্টা/১৭ মে, ২০১৭/ও্ইউ/দুরবিন ডটকম।


সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা