‘অসুস্থতা নয়, বাধ্যতামূলক ছুটিতে প্রধান বিচারপতি’

স্টাফ রিপোর্টার, দুরবিন ডটকম:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অসুস্থতার কারণে এক মাসের ছুটি নিয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে এমনটা জানানো হলেও তা মানতে নারাজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেছেন, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেছে সরকার। উচ্চ আদালতও সরকারের স্বৈরাচারী আক্রমণের শিকার বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়।

গত সোমবার প্রধান বিচারপতি এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রধান বিচারপতি ক্যানসারে আক্রান্ত। এজন্য তিনি ছুটি চেয়েছেন।

প্রধান বিচারপতিকে ছুটি নিতে বাধ্য করে সরকার নোংরা কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের রায় পছন্দ না হলে তা রিভিউ করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকার দেশের প্রবীণ বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে ছুটি নিতে বাধ্য করার যে নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তার বিরুদ্ধে দেশের আইনজীবী সমাজের পাশাপাশি সচেতন জনগণ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।’

ফখরুল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি মাত্র কয়েক দিন আগে জাপান ও কানাডা সফর করে এসেছেন। এসব দেশে উন্নত চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেখানে কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে দেশবাসী জানে না। এমনকি গত পরশু তিনি সুপ্রিম কোর্টে তার কার্যালয়ে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফাইল সই করেছেন। নিয়মিত প্রধান অনুযায়ী মঙ্গলবার সব বিচারপতিকে নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন। অথচ আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি নাকি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিয়েছেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতারা গিয়েছিলেন তার বাসায়।সেখানে তার (প্রধান বিচারপতি) পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমি সুস্থ আছি। কিন্তু কথা বলতে পারবো না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এসব কিছু থেকে প্রমাণিত হয় প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। তাকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।’

প্রধান বিচারপতির বর্তমান অবস্থান কী তা জাতি জানতে চায় বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় অস্তিত্ব সংকটের ভীতিতে বেসামাল হয়ে গেছে। ’

ফখরুল বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকারের এহেন আক্রোশমূলক, ঘৃণ্য আচরণের নিন্দা জানাই এবং শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে অনুগত করার সরকারি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।’

প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয় নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে- আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেন আর সরকারের অন্য মন্ত্রীরা বলেন তাদের সারাক্ষণ আঙুল তো বিএনপির দিকে। তারা যে একের পর এক অন্যায় অপকর্ম করছে তার বিরুদ্ধে বিএনপি সত্য, ন্যায় কথা বলে এজন্য এসব কথা বলে।’

পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয় নিয়ে আজকেই প্রথম আমরা দলের পক্ষ থেকে কথা বলছি। তাহলে উনি (আইনমন্ত্রী) যে বললেন, বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে সেটা কিসের ভিত্তিতে বললেন।’

প্রধান বিচারপতির হঠাৎ ছুটিতে যাওয়ার ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমর উদ্বিগ্ন। কারণ সরকার যেভাবে একের পর এক দেশের অন্যতম স্বম্ভগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের ওপর বড় ধরনের আঘাত দেয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, নাজমুল হক নান্নু ও কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৭ ঘন্টা, ০৪ অক্টোবর, ২০১৭/টিআর/দুরবিন ডটকম।


সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা