‘প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করতেই অভিযোগ’

স্টাফ রিপোর্টার,দুরবিন ডটকম:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জোর করে সন্ত্রাসী কায়দায় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর এখন পদত্যাগে বাধ্য করতেই হঠাৎ এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১ টি অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী একথা বলেন।

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারি নাটকের যেন শেষ হচ্ছে না। তিনি (প্রধান বিচারপতি) অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে দুনীতি, অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি অভযোগ দাখিল করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে নজীরবিহীন ঘটনা বলেও জানান রিজভী।

বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনটিকে এভাবে কালিমালিপ্ত করার ঘটনা ইতিহাসে আর কখনো ঘটেনি দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণ কোনটি বিশ্বাস করবে, তাকে ছুটি দিয়ে বিদেশ পাঠানো ক্যান্সার রোগজনিত অসুস্থতা নাকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ।

প্রধান বিচারপতির ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করার জন্যই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

এসময় প্রশ্ন তুলে বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ পেয়েই থাকেন তাহলে তিনি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করলেন না কেন এ প্রশ্ন এখন আইনাঙ্গণে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রিজভী বলেন, এখন আদালত প্রাঙ্গণে যা ঘটছে তা হচ্ছে সরকার প্রধানের একক কর্তৃত্বে বিচার বিভাগকে অধীন করার জন্য যাবতীয় আয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর অদ্বিতীয় স্বৈরাচার হওয়ার পথে সব কাঁটা সরাতেই এতো সব নির্লজ্জ দুর্বৃত্তপনা। বাংলাদেশে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অতি ক্ষমতাধররা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে, এরা এখন ভয়ঙ্কর বেপরোয়া। দলীয় সংকীর্ণতার বদ্ধকূপে তারা মন্ডুকনীতি গ্রহণ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে মৌরসীপাট্টা করে নিজেদের জমিদারিতে পরিণত করেছেন।

তবে এই জমিদারি উচ্ছেদের জন্য জনগণ এখন সংঘবদ্ধ। জনগণের ধুমায়িত বহ্নির উত্তাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণই হচ্ছে মহাজন, তারাই এই অবৈধ দখলদারদের সব ঋণ আদায় করে ছাড়বে।

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় একের এর এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর অব্যাহত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সরকারি জুলুম নির্যাতন ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবুল কালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২১ ঘন্টা, ১৬অক্টোবর, ২০১৭/টিআর/দুরবিন ডটকম।


সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা