ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাসি রুটি

হেলথ ডেস্ক, দুরবিন ডটকম:

আগের দিনের খাবার ফ্রিজে রেখে খাওয়া অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। তার মধ্যে তরকারি অন্যতম। কাজের চাপে বা সময়ের কারণে অনেক কাজই আমরা আগে থেকে সেরে রাখি।  ঠিক সেরকম একটি খাবার হচ্ছে রুটি।

বেশ কিছু গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে ফ্রিজে রেখে বাসি খাবার খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। শুধু তাই নয়, একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও সেক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। তাই তো টাটকা খাবার খাওয়ার কথা বলে থাকেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু  এত কাজের চাপে এমন পরিস্থিতিতে রোজ রোজ রান্না করার সময় কোথায়। তাই এক দিন রান্না করে খাওয়া চলছে সাত দিন।

তবে খাবার বাসি অবস্থায় খেলে শরীরের ক্ষতি হয় ঠিকই। কিন্তু বাসি রুটি খেলে কিন্তু কোনও ক্ষতি হয়ই না, উল্টে নানা উপকার মেলে। গবেষণায় দেখা গেছে বাসি রুটি নিয়মিত খেলে বেশ কিছু মৃত্যঝুঁকি একেবারে ভালো হয়ে য়ায়। যেমন, যেমন ডায়াবেটিকস এর কথাই ধরুন না। গবেষণা বলছে বাসি রুটির মধ্যে এমন কিছু উপাদান তৈরি হয়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বাসি রুটির আরও অনেক গুণ রয়েছে-

১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়

একাধিক কেস স্টাডি অনুসারে রুটির মধ্যে থাকা ফাইবার, সময় যত এগতে থাকে, তত শক্তিশালী হয়ে উঠতে শুরু করে। তাই তো বাসি রুটি দুধ দিয়ে খেলে হজম ক্ষমতার মারাত্মক উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যাও কমে যায়। তাই এবার থেকে রাতের বেলা রুটি থেকে গেলে আর ফেলে দেবেন না। বরং সকালের নাস্তায় দুধ দিয়ে খেয়ে নেবেন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে।

২. রক্তচাপ কবজায় চলে আসবে

ঠান্ডা দুধ দিয়ে বাসি রুটি খেলে শরীরের মধ্যে এমন কিছু পরিবর্তন হয়, যার প্রভাবে দেহে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও দুধ-রুটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে!

৩. ডায়াবেটিস রোগকে দূরে রাখে

এক্ষেত্রে বাসি রুটি এবং ঠান্ডা দুধ কিভাবে নিজের খেল দেখায়, তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে জানা না গেলেও এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে ব্লাড সুগারকে কন্ট্রোলে রাখলে বাসি রুটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই আপনার পরিবারে যদি এই মরণ রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে বাসি রুটি খেতে আর নাক শিঁটকাবেন না যেন!

৪. এনার্জির ঘাটতি দূর করে

সকাল সকাল মিটিং আছে? হাতে সময় নেই সকালের নাস্তা করার? চিন্তা না করে আগের দিনের রুটি আর এক গ্লাস দুধ ঝটপট খেয়ে বেরিয়ে পরুন। এমনটা করলে পেটটাও খালি থাকবে না। উল্টে এনার্জির ঘাটতিও দূর হবে। ফলে কাজে মন তো বসবেই, সেই সঙ্গে শরীরও চনমনে হয়ে উঠবে।

৫. ওজন কমায়

চটজলদি অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাইলে বাসি রুটি খাওয়া শুরু করতে পারেন। কারণ এতে উপস্থিত ফাইবার অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমে যেতে শুরু করে। আর যেমনটা সবারই জানা আছে যে কম খেলে, ওজন বাড়ার আশঙ্কাও কমে। সেই সঙ্গে দেহে পুষ্টির ঘাটতিও দূর হয়। তাই যারা বাড়ির বাইরে থাকেন, তারা চাইলে সকাল সকাল রুটি এবং দুধ খেয়ে নিতে পারেন ।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৬ ঘন্টা, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭/টিআর/দুরবিন ডটকম।


সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা