ট্রাম্পের ১০০ দিন পার হল

গৌতম দাস

গত ২৯ এপ্রিল ২০১৭, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার ক্ষমতার ১০০ দিন পুর্ণ হয়ে গেল। তিনি শপথ গ্রহণ করেছিলেন এবছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি। লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ইকোনমিস্ট বলছে,  ‘আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ১০০ দিনের কাজ ও তৎপরতা মাপা ব্যাপারটা খুবই চাতুর্যপুর্ণ (ট্রিকি)’। কথা সঠিক। আসলে এটা যেন নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ অংশ। ঐ প্রচারণায় সত্য-মিথ্যা বহু কিছু বলা হয়, আমাদের দেশি ভাষায় যাকে আমরা চাপাবাজি বলি, এর চুড়ান্ত অবস্থা করা হয়। এছাড়া এটাকে কথা-টুইস্ট করে অথবা কায়দা করে মিথ্যা বলার এক চুড়ান্ত মহড়াও বলা যায়।  আর ক্ষমতার ১০০ দিন হল অনেকটা এমন বলা যে আমরা বেশি মিথ্যা বলি নাই। তা আমরা ক্ষমতা পেলেই কী কী করব বলছি এর তালিকা দেখে বুঝতে পারবা। বলা যায় এটা হল – নির্বাচনের মিথ্যা আর চাপাবাজি থেকে প্রথম সংযত হয়ে বাস্তবে ফেরার প্রয়াস। সেজন্য বেছে কিছু কাজ ও সিদ্ধান্তের তালিকাও প্রকাশ হতে আমরা দেখি। ফলে ট্রাম্প “আমেরিকাকে আবার মহান বানাবেন” সে লক্ষ্যে প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তালিকা একটা ছিল যাতে ১৮ টা সিদ্ধান্ত-পদক্ষেপ নিবার কথা আর কংগ্রেসে ১০ টা নতুন আইনের প্রস্তাব আনার কথা লেখা ছিল। এগুলোর মধ্যে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত বাস্তবিকই কংক্রীটের দেওয়াল তুলে বেআইনী মাইগ্রেন্ট অনুপ্রবেশ বন্ধ করবেন, সন্ত্রাস-প্রবণ মুসলমান দেশ থেকে প্রবেশকারীদের ঠেকাবেন (যদিও এখানে কথাটা সন্ত্রাস আর মুসলমান শব্দ দিয়ে পরিচিত করে হাজির করা হয়েছিল কিন্তু এর আসল উদ্দেশ্য সন্ত্রাসের কথা তুলে আরও কিছু অবৈধ চাকুরিপ্রার্থী মাইগ্রেন্ট ঠেকানো/কমানো।) আর চীনকে নিজ মুদ্রামান কারসাজি করে আমেরিকার বাজারে নিজ পন্য প্রবেশের সুবিধা গ্রহণকারি (ম্যানিপুলেটর) হিসাবে করা ততপরতা বন্ধ করবেন – এমন বিষয়ও ঐ ১৮ কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে ১০০ দিনের ব্যাপারটা কী তা নিয়ে ‘ইকোনমিস্ট’ কী মনে করে এমন এক ব্যাখ্যা দিয়েছে। সে বলছে, “এই সময়কালে আসলে সেবছর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ব্যবহার কত উচুমাত্রায় উঠেছিল তা দেখার একটা সুযোগ।  ঐ সময়টা আসলে প্রেসিডেন্ট জনপ্রিয়তা উপভোগ করেন, আবার আগের ক্যাম্পেন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত পথ চলে এরপর বিজয়লাভ ঘটাতে তিনি যে জোশপ্রাপ্ত হন তা খরচ করে এবার তিনি পরের চারবছরের কাজের এজেন্ডা কী হবে তা ঠিক করেন আর কংগ্রেসকে কী কী আইন পাশ করাতে চাপ দিবেন সে পরিকল্পনা হাতে নেন”।  ইকোনমিস্ট এর কথায় একদিক থেকে সঠিক। যার সার কথা হল, এবার উচ্ছাস থুয়ে বাস্তবের মাটিতে পা নামাও।

ইকোনমিস্ট বলছে উপরে ১০০ দিন কী - এর যে মাপকাঠি বয়ান করলাম সে হিসাবেও বলতে হয় “অগ্রগতি খুবই ধীর”। তার মানে ইকোনমিস্ট খুবই নরম ভাষায় এক নেতি মুল্যায়ন হাজির করেছে। তবে এর চেয়েও আমাদের আগ্রহ জাগে এমন ব্যাপার হল, ইকোনমিস্ট নিজের করিয়ে নেয়া গত ২২ এপ্রিলে করা আমেরিকান নাগরিকের উপর এক সার্ভের খবর দিয়েছে আমাদের।  যদিও সেখানে ছোট স্যাম্পল, ১৫০০ জন। আর ওখানে যাচাইয়ের বিষয় ছিল – ‘প্রেসিডেন্ট তাদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করেছে কী না’ এনিয়ে মতামত।  জবাবদাতাদের মধ্যে ওখানে বড় একটা ভাগ হল কারা নিজেদেরকে ডেমোক্রাট/রিপাবলিকান হিসাবে অর্থাৎ কারা পার্টিজান নিজের পরিচয় দিয়েছে আর কারা দেয় নাই। সে হিসাবে, কোন না কোন পার্টিজান পরিচয় যাদের আছে তাদের মধ্যকার ৩০% মনে করে তাদের আশা পূরণ হয়েছে।   কিন্তু যারা ঐ ত্রিশভাগের বাইরে (মানে পার্টিজানদের বাকী ৭০ ভাগ) তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মুল্যায়ন দেখা গিয়েছে।  যেমন এই ৭০ ভাগের ৪১% ডেমোক্রাট আর ২৮% রিপাবলিকান যারা সবাই পার্টিলাইনে মন্তব্য করেছে। ডেমোক্রাটরা বলেছে তারা আকাঙ্খা যা করেছিল প্রেসিডেন্ট তার চেয়ে খারাপ করেছে, রিপাবলিকানরা বলেছে ‘তার চেয়ে ভাল’ করেছে। তবে ইকোনমিস্ট বলছে এটাই প্রেসিডেন্টের পক্ষে জনমত কেমন (যেটাকে রেটিং বলে) তারই প্রকাশ। ট্রাম্প বর্তমানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেকার আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে কম রেটিংয়ের প্রেসিডেন্ট। আবার এই রেটিং একেবারে দলবাজির। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৮% প্রেসিডেন্টকে অনুমোদন করে। আর ওদিকে ডেমোক্রাটদের মধ্যে ৮২% প্রেসিডেন্টকে অনুমোদন করে না।

এ’ তো গেল সংখ্যাবাচক হিসাবকিতাব। এর বাইরে আমেরিকান রাজনীতির প্রত্যেকটা ইস্যু ভিত্তিক যদি বিচারে আসি যে এই ১০০ দিনের সেগুলোর হাল-দশা কী - এই বিচারে বলতে হয়, ১। মেক্সিকো প্রাচীরঃ স্বভাবতই শুরুতেই ট্রাম্পের সাথে এই ইস্যুতে বিরোধ হয়েছিল। যে দুই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাথে ট্রাম্পের প্রায় প্রকাশ্যে বিরোধ হয়েছে তারা হল অষ্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকো।  মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সাথে ট্রাম্পের আরও অন্য বিরোধের ইস্যুও আছে। স্বভাবতই ট্রাম্পের দাবি মত ঐ প্রাচীর বানানোর খরচ দিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট অস্বীকার করেছিল। আর মেক্সিকান পাবলিকের দিক থেকে দেখলে তাঁরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল কারণ মাইগ্রেট করে আমেরিকায় প্রবেশের উপর কড়াকড়ি। এটাই আবার মেক্সিকান প্রেসিডেন্টকে দেয়া নাগরিকদের সমর্থন হিসাবে হাজির হয়েছিল।  আর সর্বশেষ হল, নিজ খরচে ‘প্রাচীর গড়ে পরে মেক্সিকোর কাছ থেকে অর্থ কেটে নেওয়া’ এরও কোন খবর নাই। কারণ কংগ্রেস এক ট্রিলিয়ন ডলারের যে বাজেট পাশ করেছে সেখানে পরিস্কার উল্লেখ করে দিয়েছে যে এর অর্থ দিয়ে প্রাচীর করা যাবে না। ২. মুসলিম ব্যানঃ সবচেয়ে বহুল প্রচারিত ট্রাম্পের এই উদ্যোগ নেয়া এবং ব্যর্থ হওয়ার খবর প্রায় সকলে দেখেছি। ট্রাম্প এবিষয়ে দুদুবার নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু দুবারই তা ফেডারল আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে কার্যকারিতা স্থগিত যায়। যা বাতিলের মূল যুক্তি ছিল “কেবল মুসলমানদেরকে’ টার্গেট করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে – ফলে তা কনষ্টিটিউশন বিরোধী ও স্থগিত। অর্থাৎ এই ইস্যু এখন আদালতের হিমাঘরে ঘুমায় আছে। মনে হয় না আর কখনও জাগবে।

৩. ন্যাটো একটা অচল প্রতিষ্ঠানঃ ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছিলেন ন্যাটো কোল্ড ওয়ার যুগের প্রতিষ্ঠান; যখন সোভিয়েত ইউনিয়নকে পশ্চিম জাতশত্রু মনে করে এর বিরুদ্ধে ন্যাটো বানানো ও সাজানো হয়েছিল।  কোল্ড ওয়ার আর সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটাই এখন নাই হয়ে গেছে, আর গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর এখন ইস্যু। ফলে এত পয়সা খরচ করে আর ন্যাটো রাখার কী দরকার! এই বুঝের উপর দাঁড়িয়ে তাই, শপথ নিবার ১৩ দিনের মাথায় তিনি বলে বসেন ন্যাটো একটা অচল (অবসলিট) প্রতিষ্ঠান। আর এবার গতমাসে ১২ এপ্রিল তিনি এবার হুবহু ভাষায় উল্টা বলেন,  “ন্যাটো আর অচল (অবসলিট) প্রতিষ্ঠান নয়”। কেন এমন? ব্যাপারটা পাবলিকলি আনা হয় নাই। তবে ইউরোপের দিক থেকে ব্যাপক দেনদরবার হয়েছে বলে এই উলটা কথা। তবে ট্রাম্পের এমন কথার পিছনে মুল কারণ খরচ, নব্বইভাগ খরচ আমেরিকাকে বইতে হয়। আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অন্য রাষ্ট্রে যেখানে আমেরিকান সামরিক ঘাটি আছে (জর্মান, জাপান, দঃকোরিয়া অষ্ট্রেলিয়া ইত্যাদি) এর খরচও আমেরিকা বহণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিতর দিয়ে সেই থেকে আমেরিকা -এক এম্পায়ার আমেরিকা, দুনিয়ার এক মাতব্বর হিসাবে উঠে এসেছিল। মাতব্বরদের বহু অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়, কমিউনিটি-দুনিয়ার দায় নিজে একা বহণ করতে হয়। ফলে এটাই এতদিন চলে আসছিল সেই থেকে। এছাড়া এম্পায়ার রুস্তমি চালানো জিনিষটাও জটিল। যেমন কোরিয়াতে থাড এন্টি মিসাইল ব্যবস্থা বসানো হয়েছে উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে, মিত্রকে রক্ষা করা জন্য। কিন্তু এক বসার জায়গা দেওয়া ছাড়া এন্টি মিসাইল ব্যবস্থা বসানোর কোন খরচ কোরিয়ার নয়, সমস্ত খরচ আমেরিকা বহন করে। ট্রাম্পের আমেরিকা চাইছে এই ‘ঐতিহাসিক’ দায় থেকে বেরিয়ে আসতে। এর মানে কী আমেরিকা এম্পায়ারের মাতব্বরিও ত্যাগ করতে চাইছেন তিনি। অবশ্যই ঠিক তাই না। তাঁর প্রথম বিবেচনা হচ্ছে আমেরিকাকে এই খরচের দায় কমাতে হবে। তাতে মাতব্বরি কিছু কমে যাবে কীনা সেটা পরে দেখা যাবে। মাতব্বরি কমলে কী হবে, এটা সে মানবে কিনা  সেটা দ্বিতীয় বিবেচনা।  কিন্তু বাস্তবতা হল চাইলেও ট্রাম্প সে খরচ তুলে আনতে পারছে না। কারণ থাড এন্টি মিসাইল ব্যবস্থা পরিপুর্ণত নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা হয় আমেরিকান বাহিনীর হাতে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি এর এক বিলিয়ন ডলার দাম চেয়েছেন কোরিয়ার কাছে কিন্তু এটা কী আমেরিকা বিক্রি করবে – এটা কী বিক্রিযোগ্য? জবাব হল যে না। এই সিরিয়াস টেকনোলজি আমেরিকা কোন ঘনিষ্ট মিত্রকেও বা আসলে কাউকেই বিক্রি করতে চায় না। তাই দ”কোরিয়া বলছে আমরা চাইলেও তো অর্থ দিতে পারছি না, কারণ আগে তোমরা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেও। এধরণের বহুবিধ টেকনিক্যাল সমস্যা আছে যার কারণে শুরু থেকেই আমেরিকা নিজে থেকেই খরচ বহণ থাকে। তাই ট্রাম্পের আমেরিকা চাইলেই এখান থেকে বের হতে পারবে না। তাই ১০০ দিনের অন্যতম ব্যর্থ ইস্যু এটা।

৪. চীনা ইস্যুঃ চীনকে ঝাড়ি মারতে গিয়ে ট্রাম্প এখন উলটা কেচো হয়ে গেছেন। এই ইস্যুতে আগে অনেক লিখেছি তাই এখানে সংক্ষেপে। আসলে  ট্রাম্প এখন উলটা চীনকে দেখছেন তার প্রেসিডেন্ট হিসাবে সাফল্য আনয়নকারী এক উপায় হিসাবে। চীনকে যতটা সম্ভব পক্ষে নিয়ে উত্তর কোরিয়া ইস্যুর যদি একটা হাল করা যায় তবে সেটা সত্যি সত্যিই আগের প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্পের বিরাট সাফল্য হবে। তবে এটা তো ১০০ দিনের অর্জন এর বিচার নয়। ওখানে চীনকে যেভাবে ভিলেন হিসাবে হাজির করে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল, চীনের বিরুদ্ধে একশনে এক জাতিবাদী আমেরিকা – আমেরিকা ফাস্ট – খাড়া করানো হবে বলা হয়েছিল  - না সেটা একেবারেই হয় নাই। কাক্রণ শত্রু ঠাহরের ভুল ছিল। ট্রাম্প এখন চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে তার “ভাল কেমিষ্ট্রীর” কথা  বলছেন। কিন্তু এতে এরপর,  এটা তো আর জাতিবাদী আমেরিকা – আমেরিকা ফাস্ট – এর অবস্থান থাকল না। এটা হয়ে গেছে আসলে ‘গ্লোবাল আমেরিকার’ অবস্থান। ফলে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির হার।

৫.  বাণিজ্য জোট (নাফটা, টিপিপি) ত্যাগঃ ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্য জোট ত্যাগ – এই হিসাবে তা ঘটেছে। ফলে ১০০ দিনের কাজ হিসাবে এটা সফল।  কিন্তু এর আফটার এফেক্ট বা ফলাফল  কী সুখপ্রদ? এর জবাব সুখকর না। আসলে এই তর্কে গোড়ার প্রশ্ন যদি করি, বিজয়ী ট্রাম্প জাতিবাদী আমেরিকা – আমেরিকা ফাস্ট হিসাবে হাজির হয়েছিলেন। যার অর্থ খোদ আমেরিকাই আর গ্লোবালাইজেশনের পক্ষে থাকবে না। এর বিচারে বলা যায় তিনি গ্লোবালাইজেশনের পক্ষেই থেকে গেছেন। অবস্থান তিনি একচুলও সরাতে পারেন নাই। বরং তাঁর নীতির প্রায় সবগুলো ঝোঁক ওবামার নীতি অবস্থানের ফেরত যাবার দিকে (বিশেষ কিছু গুলো ছাড়া)। যেমন নতুন করে নাফটা নিয়ে কথা বলা আর নতুন নিগোশিয়েশন শুরু করতে চাইছে ট্রাম্পের আমেরিকা। আর উপরে ‘বিশেষ কিছু গুলো’ বলতে ভারতের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে বলা হয়েছে। ভারতের হাত থেকে আমেরিকানদের চাকরি উদ্ধার বা ফেরানো এবং সে লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন তা কিন্তু আগিয়েই চলছে। যেজন্য মোদি আগামি মাসের মধ্যে সাক্ষাতের জন্য খুবই চেষ্টা করছেন।

৬। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে আসাঃ বের হয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে বটে তবে ধীর গতিতে আর ভাষা নরম করে। যদিও কানাডা থেকে পাইপ  লাইনে (পরিবেশগতভাবে নোংরা ও বিপর্যয়ের হুমকির কারণে বিপদজনক) তেল আনার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন আমেরিকান স্টিল সেখানে ব্যবহার করাবেনই । তার আমেরিকা ফাস্ট নীতি কার্যকর করবেনই তিনি। না, এখানে ট্রাম্প ব্যর্থ। তিনি আমেরিকান স্টিল ব্যবহার করাতে পারেন নাই। নিজের নির্বাহী আদেশ নরম করে ইতোমধ্যেই বদলাতে হয়েছে তাকে।

আরও এমন পয়েন্ট তোলা যায় কিন্তু এখানেই শেষ করছি। এক কথায় বললে, ট্রাম্প যেভাবে পুর্বসুরি প্রেসিডেন্টদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যে বা বোকা ভেবে তাদের নীতিকে তুলোধুনা করেছিলেন, আর ক্ষমতা পেলেই সব বদলে ফেলবেন ধরণের হুঙ্কার দিচ্ছিলেন তা ১০০ দিন বা সাড়ে তিন মাসেই ফানুসের মত ফুস করে চুপসে গিয়েছে। বা বলা যায় চাপাবাজি আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবের মাটিতে পা দিতেই সব ভেঙ্গে চুরচুর হয়েছে অথবা সাইজ হয়ে গিয়েছে।  

অনলাইন ‘মিডিলইষ্ট আই’ পত্রিকা ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে গিয়েছিল। বলছে ট্রাম্পের উল্টামুখিতার আংশিক ব্যাখ্যা হিসাবে বলা যায় - হোয়াইট হাউসের ভিতরের রেডিক্যালেরা যেমন স্টিভ ব্যানন, মাইক ফ্লিন, কেটি ম্যাকফারল্যান্ড – এরা হয় পদত্যাগ করেছেন না হলে সাইডলাইনে চলে গেছেন। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে ম্যাকমাস্টার আসাতে তিনি বহু কিছুকেই ফ্যাক্টবেজ করে ফেলেছেন।  এই পতনকেই আমরা ট্রাম্পের উল্টামুখিতা হিসাবে বাইরে থেকে দেখছি। আর এর বিপরীতের ঘটনা হল, ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা, ট্রাম্পের জামাই কুশনার আর টপ অর্থনৈতিক পরামর্শক গ্রে কোহেন এরা মূলত গ্লোবালিস্ট – এদের অবস্থান ক্রমশ উচ্চতর হচ্ছে।  তবে ট্রাম্পের এই পরিবর্তনের অভিমুখ নিয়ে ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের হকিসদের বিরাগভাজন হবার রিস্ক নিচ্ছেন যারা কিন্তু তাকে তার নির্বাচনী পরিক্রমায় বিজয়ী হতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন।

 

গৌতম দাস

০৮ মে ২০১৭

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

 

Goutom Das

গৌতম দাস

বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। ১৩ বছর যাবত আফ্রিকার নানা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জাতিসংঘের সাথে চাকুরি সুত্রে কাজকর্মে। তিরাশির ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক। অনুবাদ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র বিষয়ক লেখালেখি করছেন। প্রকাশিত বই: কার্ল মার্কসের জর্মান ভাবাদর্শ(অনুবাদ), আগামী প্রকাশনী এদেশে সমাজতন্ত্র ও বিপ্লবে কৃষকের ভূমিকার প্রশ্নে, প্রতিপক্ষ প্রকাশনী

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা