চীনের ‘বেল্ট ও রোড উদ্যোগের’ বিরাট আয়োজন

গৌতম দাস

চীনের বেল্ট ও রোড উদ্যোগ (Belt & Road Iniitiative)। এটা এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকা মহাদেশকে এক সাথে জুড়ে এমন এক অবকাঠামো প্রকল্প। চীনের উদ্যোগে ও বিনিয়োগে নেয়া এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ৬৫ টা রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন এক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে এশিয়ার কোন রাষ্ট্রকে বাদ রাখা হয় নাই। যদি না কেউ নিজে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বলা ভাল এখানে এশিয়ান রাষ্ট্রগুলোরই প্রাধান্য; তবে অবশ্যই সাথে ইউরোপ, সেন্ট্রাল এশিয়া আর আফ্রিকার দেশও অন্তর্ভুক্ত। এর ভৌগলিক ধারণাটা হল এমন যে যেমন বাংলাদেশ থেকেই যদি ধরি, এখান থেকে মূল হাইওয়ে সড়ক পথে  চীন হয়ে সেন্ট্রাল এশিয়া হয়ে, পুর্ব ইউরোপ হয়ে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়া সম্ভব। এটাই মূল হাইওয়ে। আর পথের দুপাশের সব রাষ্ট্রকে এই অবকাঠামোর সাথে যুক্ত করে নেয়া হবে। ইউরোপের রটারডাম (নেদারল্যান্ড) থেকে আবার ইতালি হয়ে এবার নৌপথে বা কখনও কোস্টাল সড়ক ঘুরে বাংলাদেশে ফেরা সম্ভব। তবে ঐ মূল হাইওয়েতে সময়ে সময়ে করিডর হিসাবে অন্তত ছয় জায়গায় ছয়টা করিডর-সংযোগ সড়ক  থাকবে মূল বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ-এ।  আর ঐ নৌপথের মধ্যে মধ্যে অন্তত দশটা জায়গায় গভীর সমুদ্র বন্দরের যোগাযোগ আছে/ থাকবে যেখান দিয়ে নৌপথ ছেড়ে কোন একটা করিডর ধরে মূল হাইওয়ে সড়কে উঠা সম্ভব।   

গত ২০১৩ সালে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে এই আইডিয়া প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামি ১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে ‘বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’ (আগের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কে কেন্দ্র করে এই সম্মেলনের নাম) এই মেগাপ্রকল্পের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ২৮ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এতে যোগদান নিশ্চিত করেছেন। ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধান বলতে রাশিয়ার পুতিন ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত তবে কম গুরুত্বপুর্ণ অনেকে রাষ্ট্রপ্রধান আছেন। আর দুনিয়ার বড় অর্থনীতির উপর দিক থেকে সাতটা রাষ্ট্র হিসাবে তাদের ক্লাব জি-৭ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ইতালীর প্রধানমন্ত্রীই সেখানে থাকছেন। তবে তাই বলে বৃটেন, জর্মানী বা ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই তিন মূল মাতবর এই সম্মেলন ঠিক বর্জন করছেন তা নয়, তবে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের বদলে অন্য কোন মন্ত্রী হাজির থাকছেন।

আসলে আমেরিকার নেতৃত্বের গ্লোবাল অর্থনীতির চলতি দুনিয়া নতুন করে চীনা নেতৃত্বে নতুন পোলারাইজেশনে ঢেলে সাজিয়ে খাড়া হতে চাচ্ছে – দুনিয়ার গতি প্রকৃতি সে দিকে। বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ – সে পথের আর এক উদ্যোগ বলা যায়। বিশেষ করে চীনের নেতৃত্বের বিশ্বব্যাংক যাকে বলা হয়, সেই এআইআইবি বা এশিয়ান ইনফ্রাষ্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক গঠনের সময় যেমন পশ্চিমের প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এর সম্মেলন এর সময়ও অনেকটা সেরকম পরিস্থিতি। খোদ আমেরিকা এবং এশিয়ায় আমেরিকার ঘনিষ্ট অংশীদার জাপান – এই দুই রাষ্ট্র বাদে প্রায় সকল রাষ্ট্র এই সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে।   

 

তবে কিছু জল্পনা কল্পনার কথাও বলে রাখা যেতে পারে। ভারতীয় মিডিয়া গত ১৩ মে থেকে প্রবলভাবে দাবি করছে যে আমেরিকা ইউ-টার্ন নিয়েছে। সে এই সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  টাইমস অফ ইন্ডিয়া ও ‘ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস’ এবিষয়ে রিপোর্ট করেছে। যদিও অন্য কোন ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া বা এজেন্সী থেকেও এমন খবর দেখা যায় নাই এখনও। আবার ব্যাপারটা একেবারে আকস্মিক, বা হতেই পারেনা তাও নয়। কারণ ট্রাম্প জিতে যাওয়ার পর থেকে ট্রাম্প শিবিরের এক্সপার্টরা বলতে শুরু করেছেন যে ওবামা এআইআইবি ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ এবং বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এইদুটোর বিরোধিতা করে ঠিক করেন নাই।

ওদিকে ভারত অংশগ্রহণের  সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কী নিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট জানা যায় নাই। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, “আমেরিকার ইউ-টার্ন ভারতের উপর চাপ তৈরি করেছে”। কিন্তু ঠিক কী কারণে ভারত এই সম্মেলন বর্জন করছে এবিষয়ে দুটো মিডিয়া দুরকম জবাব দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখছে, “চীন ‘বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প নিয়ে ভারতের জন্য যথেষ্ট আস্থার পরিবেশ তৈরি করে নাই” তাই সে যাচ্ছে না। তবে ইন্ডিয়ান এমবেসির জুনিয়র  প্রতিনিধির দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে।  বিপরীতে ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস লিখছে, সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করে একটা ম্যাসেজ দেওয়া দরকার। কারণ তারা আমাদের সার্বভৌমত্ব ইস্যুকে হালকা করে দেখেছে।  অর্থাৎ ভারতের অংশগ্রহণ এড়িয়ে যাওয়া ঠিক কী কারণ দেখাবে তা সম্ভবত এখনও অফিসিয়ালি সাব্যস্ত হয় নাই। এর অর্থ সার্বভৌমত্বের অভিযোগটা নিয়ে ভারতই সিরিয়াস নয়। ব্যাপারটা আসলে তাই এটা মনে করার কারণও আছে। কিন্তু অভিযোগটা উঠল কোন সুত্রে?

পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে পাকিস্তানের বুক চিরে দক্ষিণ থেকে উত্তর পেরিয়ে হাইওয়ে সড়ক পথ চালু করা হয়েছে যেটা পাকিস্তান পেরিয়ে চীনের ল্যান্ডলকড জিংজিয়ান প্রদেশে গিয়ে মিলেছে। তবে চীনের ভুখন্ডে প্রবেশের পর এই করিডর-সড়ক বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এর মূল হাইওয়ে সড়ক ক্রশ করে নিয়েছে। অর্থাৎ গোয়াদর থেকে আসা সড়কই চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর। চীনকে দেয়া পাকিস্তানের করিডোর। কিন্তু আবার পাকিস্তান পেরোনোর আগে এই সড়ক কিছুটা অংশে পাকিস্তানের আওতাধীন কাশ্মীর পেরিয়ে এসেছে। ওদিকে বাস্তবতা না থাকলেও ‘কাশ্মীরের পুরাটাই ভারতের অংশ’ বলে ভারত এক অফিসিয়াল দাবি আছে। অতএব চীন পাকিস্তান-কাশ্মীর ব্যবহার করে এই সড়ক তৈরি করে ভারতের সার্বভৌমত্ব হালকা করে দেখেছে। এই হল ভারতের যুক্তি। অর্থাৎ এটা কোন মতে মিলানো এক দাবি মাত্র। আগেই বলেছি দুই মিডিয়ার দুই ধরণের বক্তব্য প্রমাণ করে ভারত সরকার নিজেই সার্বভৌমত্ব নিয়ে সিরিয়াস নয়। বরং চীন আরও কত তেল মারলে ভারতের নিজের এই সম্মেলনে যোগদান ঘটবে যেন এরই অপেক্ষা। এদিকটাতে তাকিয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়া লিখছে, “এবার এখনই সম্মেলনে প্রতিনিধি না পাঠালে ভারতের বস্তুগত লাভালাভের দিক থেকে ক্ষতিবৃদ্ধি নাই কারণ, বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প কোণ সদস্যপদ ভিত্তিক সংস্থা নয়”। অর্থাৎ আরও দেরি করে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে নিজের দাম আরও বাড়ে কীনা তা পরখে নামতে চায় ভারত। তবে যোগদান না করার ব্যাপারে ভারত অবশ্যই বেপরোয়া নয়, কারণ এটা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং তা ফিজিক্যালিই গ্লোবাল। ভারত তাই কখনই তার যোগদান না করে দেয় নাই। তবে এই প্রকল্পের প্রতি আমেরিকা নেতি অবস্থান, মতামত বদলানোর কথা শুনা যাচ্ছে বলে নয়, এই সম্মেলন যে ইতোমধ্যেই গ্লোবাল আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছে এর আর এক ভাল প্রমাণ হল, এতে অংশগ্রহণ করছেন জাতিসংঘের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল আন্তেনিও গুতারেস,  বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের নির্বাহী প্রধানেরা। এর অর্থ গ্লোবাল অর্থনীতিতে বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প একটা ফ্যাক্টর এর পক্ষে স্বীকৃতি এসেছে।

এছাড়া এই প্রকল্পে বিনিয়োগ আসবে কোথা থেকে, এর জবাবে চীন বলছে ৪০ বিলিয়ন ডলার চীন নিজের উন্নয়ন ব্যাংক থেকে যোগান দিবে। আর বাকীটা আসবে সদ্য গঠিত এআইআইবি ব্যাংক থেকে। এছাড়া ব্রিক ব্যাংক উদ্যোগের ভিতরে যে আরও একটা অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক আছে (নিউ ডেভেলবমেন্ট ব্যাংক নামে, সম্প্রতি যেখানে বাংলাদেশ সহ ১৫ এশিয়া দেশকে সদস্য করা হচ্ছে) সেখান থেকেও যোগানো হতে পারে। মোট ৬৫ রাষ্ট্র এই প্রকল্পে যোগ দেয়া আর নিজের নিজের রাষ্ট্রকে মুল অবকাঠামোর সাথে যুক্ত করে নিতে গেলেও প্রত্যেক রাষ্ট্রকেও কিছু সংযোগ-অবকাঠামো করে নিতে হবেই। আর সেকাজেও যা বিনিয়োগ লাগবে সে ঋণ চীন যোগান দিতে রাজী। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটা অনেক বেশি পরিমাণ হবে।

কলকাতা থেকে বাংলাদেশ, মায়ানমার হয়ে কুনমিং চীন যেটা বিসিআইএম প্রকল্প বলা হয় - সেই হাইওয়ে সড়ক কুনমিং চীন হয়ে বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এর হাইওয়ের সাথে যুক্ত হবে।  এই সড়কের আর একটা অংশ হবু সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দরের সাথে যুক্ত থাকবে। সোনাদিয়া-বিসিআইএমের মাধ্যমে  এটাই আর একটা করিডর হিসাবে বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এর হাইওয়ের সাথে যুক্ত হবে। এই ছিল পরিকল্পনা। এখন ভারত বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পে যোগ না দিতে ইচ্ছা জানানোর অর্থ হবে ভারত বিসিআইএম প্রকল্পে নাই। কলকাতা-বাংলাদেশ অংশ নাই। এমন ইচ্ছা করতে ভারত চাইতেই পারে। তবে বলার অপেক্ষা রাখেনা এমন ইচ্ছার কাফফারাও আছে তা ভারতের অজানা নয়। তবু একটা কথা এবার স্পষ্ট যে এতদিন বিসিআইএম নিয়ে গড়িমসি করা, মায়ানমারকে নিরাসক্ত করে রাখার ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখা, বন্দরের জায়গা নির্বাচন নিয়ে অর্থহীন হস্তক্ষেপ ও সময়ক্ষেপন ইত্যাদি যা কিছুতে ভারত ভুমিকা রাখতে পেরেছে সেসবের দিন এবার শেষ।  ভারতের পড়শি কোন রাষ্ট্র এই সম্মেলন যোগ দিতে বাকি নাই, মায়ানমার নেপাল সহ, ব্যতিক্রম কেবল ভুটান। এককথায় বললে ভারতের পক্ষে বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতি না সম্ভবত বলা যায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া অসম্ভব। যেমন সেক্ষেত্রে এর একটা অর্থ হবে, ৬৫ টা রাষ্ট্রের সাথে তাল মিলিয়ে বা একই তালে একই অবকাঠামো সুবিধায় যুক্ত হওয়া থেকে ভারত নিজেকে বাইরে রাখবে। এটা রীতিমত নিজেই নিজের উপর অবরোধ ডাকার সামিল। একঘরে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ফলে ভারতের এমন সিদ্ধান্ত নেয়া অসম্ভব। তবে হা কিছুটা দেরি করতে পারে। কিন্তু তাতেও নিজের ক্ষতি, পিছিয়ে পড়া ঘটবে।

 

আগেই বলেছি চীনের গ্লোবাল অর্থনীতির নতুন নেতা হওয়ার দিক থেকে বিশ্বব্যাংকের সমান্তরালে এআইআইবি ব্যাংক চালু করা যদি একটা পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তবে  বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ হবে প্রায় সমান্তরাল গুরুত্বপুর্ণ দ্বিতীয় পদক্ষেপ। আর এক ধাপ আগানো। তবে প্রভাব প্রতিপত্তির দিক থেকে বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ এর ইমপ্যাক্ট হবে এআইআইবি ব্যাংকের চেয়ে বেশি। কারণ এটা অবকাঠামো, মানে ফিজিক্যাল পদক্ষেপ। আর এই ফিজিক্যাল পদক্ষেপের উপর চীনের নিয়ন্ত্রণ ও ভুমিকার কারণে গ্লোবাল অর্থনীতিতে চীনের ওজন ও গুরুত্ব হবে আরও দৃশ্যমান। এবং এটা হবে অপ্রতিদ্বন্দ্বি। গ্লোবাল অর্থনীতিতে ১৯৯০-২০১০ এই বিশ বছর ডাবল ডিজিট গ্রোথের কাল মানা হয়। বর্তমানে যা তুলনা মূলকভাবে শ্লথ ভাবে চলছে। সে অর্থনীতিতে আবার এক গতির সঞ্চার করার সম্ভাবনা রাখে  বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ।

 

আজকের ভারত ডাবল ডিজিট গ্রোথের কালের এক অন্যতম বেনিফিসিয়ারি। এআইআইবি ব্যাংক গড়ার কালে ভারত ছিল সঠিক ভাবেই চীনের সমর্থক, প্রধান সাগরেদ। ঐ ব্যাংকের মালিকানায় চীনের সর্বোচ্চ ৩০% এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভারতের প্রায় ১০%, অন্যান্যদের মধ্যে ৫% এর উপরে কেউ নাই। আমেরিকার শত প্ররোচনাতেও ভারত চীনের ঐ ব্যাংক উদ্যোগে সাথ ছাড়ে নাই।  

তাহলে ভারত ঠিক কিসের বিরোধীতা করছে, কি পেতে সেটা করছে? আমরা আশা করি না এসব ক্ষেত্রে ভারতের কোন সিদ্ধান্ত ঈর্ষাপ্রসুত, ভুল ভিত্তির এক্সপেকটেশন বা ওভার এস্টিমেশনের দোষে দুষ্ট হবে।  দুনিয়াতে ক্যাপিটালিজম জেঁকে বসার পর থেকে দেখা গেছে এক এক কালে কোন এক  রাষ্ট্র বা ভুখন্ডে ঐকালের সর্বোচ্চ উদ্বৃত্ব সঞ্চয়ের ভুমি হয়ে হাজির হয়েছে। যার অর্থ নতুন বিনিয়োগ বা নতুন যেকোন উদ্যোগ নিবার সুবিধা ঐ রাষ্ট্র এককভাবে পেয়েছে। এটা অবজেকটিভ, ফলে এর সাথে লড়ার বা একে মানতে না চাওয়ার কিছু নাই। কারণ এই সঞ্চিত উদ্বৃত্ব এটাই যে কোন রাষ্ট্রের পরাশক্তি, রুস্তমি প্রভাব বিস্তার সহ সব ধরণের ভুমিকায় হাজির হবার আসল উৎস। এটা অবজেকটিভ, ফলে না মানা মুশকিল। ফলে দুটা কথা ভারতকে মানতেই হবে। এক, আমেরিকা ভারতের ভবিষ্যত নয়। ভারতের পক্ষের শক্তি নয়, বড়জোর অস্ত্রের সরবরাহকারি হতে পারে। তা হোক, তাতে সমস্যা নাই। তবে গ্লোবাল অর্থনীতির আগামি নেতৃত্বের ভাগ অর্থে ভারতের পক্ষের শক্তি হল চীন। এটা শুনতে অনেকের ঈর্ষা মনে কটু লাগতে পারে কিন্তু এটা বাস্তবতা। ফলে চীনের সাথে সীমানা বিরোধসহ যা কিছু বিরোধ আছে তা নিগোশিয়েশনের সুযোগ নেয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।  এছাড়া এশিয়াতে কার ভুমিকা প্রধান হবে এটা তো বাংলাদেশে একটা হাসিনা বসিয়ে, ল্যান্ডলক নেপালে ঐতিহ্যবাহী নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে মনে করে, শ্রীলংকায় নতুন সরকার কায়েম করে ইত্যাদিতে কোন কিছুই সামলানো যায় নাই, যাবে না। এটা আর কলোনি সাম্রাজ্যের যুগ না। এযুগে “চীনের সাথে ভারতের পড়শিরা সম্পর্ক রাখতে পারবে না” ভারত সবাইকে চীনমুক্ত দেখতে চায় – এটা ভারতের কোন মুরোদের উপর ভরসা করে নেয়া বিদেশনীতি?  এরচেয়েও অবাক কান্ড এই বাস্তবতাহীন নীতিকে প্রশ্ন করার লোকজন ভারতে দুস্প্রাপ্য।  মূল কারণ সম্ভবত এরা আমেরিকার পে-রোলে নাম লিখিয়েছে।  অথচ খোদ আমেরিকাই নাকি পল্টি মারছে!

 

গৌতম দাস

১৫ মে ২০১৭

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

 

Goutom Das

গৌতম দাস

বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। ১৩ বছর যাবত আফ্রিকার নানা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জাতিসংঘের সাথে চাকুরি সুত্রে কাজকর্মে। তিরাশির ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক। অনুবাদ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র বিষয়ক লেখালেখি করছেন। প্রকাশিত বই: কার্ল মার্কসের জর্মান ভাবাদর্শ(অনুবাদ), আগামী প্রকাশনী এদেশে সমাজতন্ত্র ও বিপ্লবে কৃষকের ভূমিকার প্রশ্নে, প্রতিপক্ষ প্রকাশনী

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা