ট্রাম্প আল্লাহর দূত: সৌদি বাদশাহ

মাসকাওয়াথ আহসান

সৌদি আরব সফরকালে এমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তার বক্তৃতায় বলছিলেন, এ লড়াই খারাপের বিরুদ্ধে ভালোর লড়াই; এ লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে; 'ভালো' শব্দটি তখন নৃত্যরত সৌদি বাদশাহ'র তরবারি আর মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসির চকচকে জুতায় প্রতিফলিত হয়।

ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া সৌদি বাদশাহ'র সঙ্গে কথা বলার সময় জিজ্ঞেস করেন, যে ট্রাম্প মুসলমান বিদ্বেষী শ্লোগান দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলো; তাকে আপনি আল্লাহর দূত বললেন যে!

সৌদি বাদশাহ বলেন, আমরা চাই মুসলমান মিসকিন দেশগুলোর অসহায় নাগরিকেরা দাসদাসীর কাজ করতে সৌদি আরবে আসুক। এমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ থাকলে মিসকিনেরা আর আমাদের মুসলিম গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে মানতে চায় না। ইরানের বিরুদ্ধে জোটে মিসকিন দেশগুলোকে পাশে পাচ্ছি; কারণ সৌদি আরবে তাদের লাখ লাখ নাগরিক কাজ করে দুটো পয়সা দেশে পাঠায়; তা দিয়ে তাদের ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ে। পরিসংখ্যানের জরির ফিতায় উন্নয়ন ঝিলিক দেয়। এখন সুড়সুড় করে মিসকিন দেশের সরকার প্রধানরা এসে আমাদের দলে ভিড়বে।

মেলানিয়া বাদশাহকে বলেন, ক্যানাডার জাস্টিন ট্রুডো যখন কোন মুসলমান নারীর মুখোমুখি হন; তখন ডান হাত নিজের বুকের বাম দিকে রেখে সম্মান জানান; কিন্তু আপনি খ্রিস্টান নারী মেলানিয়ার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলেন যে!

বাদশাহ একটু অপ্রস্তুত বোধ করেন। মেলানিয়া তার সৌদি সফরে প্রতিশ্রুতিশীল পোশাক পরবেন বলে আশা করেছিলেন সৌদি রাজন্যবর্গ। কিন্তু মেলানিয়া পুরো সৌদি মন্ত্রীসভাকে হতাশ করে জুডো-কারাতের ঢিলেঢালা পোশাক পরে সৌদি আরবে ঘোরাঘুরি করতে শুরু করেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী মেলানিয়াকে বলেন, আমরা চাই আপনি আপনার দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী এমেরিকায় যে ফ্যাশানের পোশাক পরেন; এখানেও তা পরবেন।

মেলানিয়া উত্তর দেন, নিজেদের স্ত্রীদের অন্দর মহলের অবরোধবাসিনী করে রেখে আপনারা আমার পোশাকের মুক্তির জন্য এতো বেচায়েন কেন বুঝতে পারছি না।

সৌদি বাদশাহ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে শাসিয়ে দেন, আমাকে একটু মেলানিয়ার সঙ্গে গল্প করতে দাও; তুমি গিয়ে বরং ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকার সঙ্গে সেলফি তোলো।

এমন সময় সৌদি অর্থমন্ত্রী এসে বলেন, আলেমপনা ট্রাম্প কিন্তু অস্ত্রের অনেক বেশী দাম হেঁকেছেন; এই দাম চুকাতে গেলে আমাদের পেট্রোলিয়াম কোম্পানীর আরো শেয়ার বেচতে হবে।

--সব সময় কেন মনে করিয়ে দাও যে আমরা গরীব হয়ে যাচ্ছি! যেভাবেই পারো আমার মানসম্মান বাঁচাও। ট্রাম্পের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতেই হবে; কারণ এমেরিকাও গরীব হয়ে গেছে। এই অস্ত্র বিক্রির টাকা দিয়ে ট্রাম্প আপাততঃ নিজের দেশে তার নিজের মানসম্মান বাঁচাবে।

ট্রাম্প নৈশভোজের সময় সৌদি বাদশাহকে জিজ্ঞেস করেন, সত্যি করে বলবেন ইরানের ওপর আপনার আসল রাগটা কোথায়!

বাদশাহ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, আমাদের ধন-সম্পদ অনেক; কিন্তু শিক্ষা-সংস্কৃতি বলে কিছুই তো নাই। আমার ছেলেরা বিশ্বের যেখানেই যায়; লোক হাসায়। অথচ এই ইরানটা শিক্ষা-সংস্কৃতিতে সব সময়ই এগিয়ে। আমরা ব্যবসা-চর্চা করে ঠিক মর্যাদাটা পেলাম না। আর ইরান দর্শন-চর্চা করে পৃথিবী জুড়ে একটা মর্যাদার আসন পেয়ে গেছে। শুনলাম ওদের কবি জালালউদ্দিন রুমী এখন আপনার এমেরিকায়ও বেস্ট সেলার পোয়েট।

ট্রাম্প আর্তনাদ করে বলেন, হোয়াট ইজ পোয়েট্রি! কবিতা কী খাওয়া যায়; নাকি তা দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায়!

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যখন সৌদি বাদশাহ, ট্রাম্প আর তাদের আজ্ঞাবহ মুসলিম রাষ্ট্রের শীর্ষনেতারা একটি ক্রিস্টালের বিশ্বমানচিত্রে হাত রেখে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়।

ট্রাম্প সৌদি বাদশাহ'র কানে ফিসফিস করে বলেন, ইজরায়েলের নেতা নেতানিয়াহুর হাতটাকে এই গোলকের ওপর বড্ড মিস করছি ।

সৌদি বাদশাহ বলেন, কিছু কিছু প্রেম থাকে যা গভীর অথচ গোপন হয়।

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা