চালের বাজারে সরকার নিয়ন্ত্রণ হারাল কেন

গৌতম দাস

‘চড়া চালের বাজার’, 'চালের দাম নাগালের বাইরে' বা এর চরম অবস্থা ‘দুর্ভিক্ষ’ শব্দগুলোর ব্যবহার বাংলাদেশে কমবেশি লোপ পেতে শুরু করেছিল। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের পরবর্তিকালের সময় তুলনামূলক ভাল সময় কাটলেও দাম চড়া বা চালের অভাবের মত উল্লেখযোগ্য বছর ছিল ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরর প্রথম বছরে। ঐ বছরের মাইলষ্টোন বা রেকর্ড হল, মোটা চালের দাম ৪২ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া। এবার ২০১৭ সালে আবার অনাকাঙ্খিতভাবে চালের দাম চড়া বা চালের অভাবের অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর এবারের নতুন রেকর্ড হল মোটা চালের দাম বেনাপোল বন্দরেই ৪৮ টাকা বা এর উপরে উঠেছিল।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে চুয়াত্তরের চালের বাজার আর আজকের চালের বাজারের মধ্যে মৌলিক এক ফারাক আছে। তা হল, সেকালে চালের বাজার ছিল কমিউনিস্ট সোভিয়েত মডেলে তথাকথিত পরিকল্পিত অর্থনীতির আলোকে  সাজানো – যার অর্থ আমরা তখন ‘রেশনে’ চাল পেতাম। একালের অনেকের কাছে ‘রেশন’  শব্দটা অপরিচিত লাগবে হয়ত। রেশন কথার অর্থ হল,  বিপুল ভর্তুকী দিয়ে সরকারের  চালেরর দাম নামিয়ে রাখা। আর প্রত্যেক পরিবারের সদস্য গুনে সে অনুযায়ী, পরিবারের সাপ্তাহিক চাহিদার চাল নির্দিষ্ট দোকান থেকে বাজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করা।  কমিউনিস্ট অনুমানের অর্থনীতির জ্ঞানে তাদের বিরাট রাগ “বাজার” এর উপরে, ফলে বাজারকে কার্যকর বা ফাংশনাল হতে না দেয়া। তাদের কাছে বাজার ম্যানেজেবল জিনিষই না। তাই বাজার ভেঙ্গে দিয়ে তাদের কাছে বিকল্প হল রেশনিং বা ভর্তুকী ব্যবস্থা।  তাদের ধারণা ‘বাজার’ - মুনাফা বা শোষণে সহায়তা করে। এটা সম্ভব হয় কারণ মজুতদারেরা বাজারের মধ্যে নোংরা অযাচিত হাত ঢুকিয়ে বাজারকে বাজার থাকতে দেয় না। অর্থাৎ চাহিদা-যোগানে পণ্যের মুল্য থিতু হবার ক্ষেত্রে  দাম নির্ধারণের ফ্যাক্টরগুলোকে অবজেকটিভ না থাকতে দিয়ে সাবজেকটিভ মজুতদারের ইচ্ছার হাত ঢুকিয়ে দেয়ার সুযোগ নেয়। এটা সত্যি যে বাজারকে অবজেকটিভ রেখে দেওয়া টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন। কে কোথা থেকে বাজারের মুল্যকে প্রভাবিত করতে হস্তক্ষেপ করে বসে তা ঠেকানো শক্ত আইন কানুন করেও সহজে সম্ভব হয় না। এই সমস্যা আছে। কিন্তু অন্যদিকে আবার  চালের মত মানুষের প্রধান খাদ্য, মুখ্য ভোগ্যপণ্যে ভর্তুকীর অর্থনীতি জারি রাখলে রাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণে ভর্তুকীর অর্থ সংস্থানের দরকার হয়। যা যোগাড় করতে যেকোন সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। কারণ ভর্তুকী কোথা থেকে আসবে? স্বাভাবিকভাবেই এটা রাজস্ব আয়ের উপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি করে। ফলে সরকারি ব্যয়ের অন্যান্য খাতকে প্রায় সময় ছেটে ফেলতে হয় কারণ চালে ভর্তুকীর অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি দরকারি, প্রায়োরিটি আগে। আবার, চালের মুল্যের সাথে শ্রমের নুন্যতম মজুরি সরাসরি সম্পর্কিত। চালের মুল্য কম তো নুন্যতম মজুরি তুলনামূলক কম হবে। তাই সমাজে মোট উতপাদনের বেশির ভাগ অংশই যদি বেসরকারি খাতে হয় তবে  চালে ভর্তুকীর সুফল আসলে যাবে কারখানা মালিকের ঘরে, কম মুল্যে শ্রম কিনবে সে। মানে, পাবলিক মানি যাবে ব্যক্তি মালিকের ঘরে।  এছাড়া ভর্তুকীর সবচেয়ে বড় অসুবিধা এর ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনা। ঠিক যার ভর্তুকী দরকার সে ছাড়াও অজস্রলোক যাদের দরকার নাই তারাও ভর্তুকী আওতায় এসে যায়। ফলে ভর্তুকীর চাল উঠিয়ে নেয়, বাজারে বিক্রি করে, ভুয়া নামের রেশন কার্ড থাকে ইত্যাদি। এভাবে ভর্তুকীর বিরুদ্ধে বা পক্ষের যুক্তি আরও যাই থাক, আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ থেকে ভর্তুকী দেয়া বা রেশনিং ব্যবস্থা একেবারেই উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। কেন? কারণ, সরকার চালানোর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনা আর সরকার চালাতে ব্যয় কমানো, এটা করতে প্রয়োজনগুলোকে সুনির্দিষ্ট করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ, এভাবে ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো যাতে এবার খরচ কম হয় আর সেই সাথে ব্যবস্থাপনা দক্ষ হয় ইত্যাদি করতে নেয়া হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের এক প্রকল্প। এই প্রকল্পের শর্ত মান্য করতে গিয়ে বাংলাদেশের রেশনিং ব্যবস্থা একেবারেই উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। এতটুকু পড়ার পর অনেকে সিদ্ধান্তে যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠতে পারেন যে, ‘দেখছ, বিশ্বব্যাংক কত খারাপ’ ইত্যাদি।  না এমন চিন্তা অতিসরলীকরণের দোষে দুষ্ট হবে। আসলে ব্যাপারটাকে বলা যায়, চালের বাজারকে ভিন্নভাবে পদ্ধতিতে ম্যানেজ করার দিকে চলে যাওয়া, ঠিক রেশনিং উঠানো বা ভর্তুকী বন্ধ করা দেয়া নয়। এক বাক্যে বললে এই তত্ত্বটা হল, ১। চালের বাজারকে ফাংশন করতে দেয়া। ২। সরকার হবে হবে সিস্টেমের মনিটর আর ব্যবস্থাপক। ৩। আর মজুতদারি মোকাবিলার সবচেয়ে সহজ পথ হবে, সরকার নিজেই হবে এত বিরাট মজুতদার ফলে ব্যক্তি মজুতদার হয়ে যাবে চুনোপটি অকার্যকর ক্ষমতার। কারণ ছোট মজুতদারিও লাভজনক হবে কীনা সে সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ সরাকারের হাতে চলে আসবে।  ৪। ধান উঠার পর সংগ্রহমুল্য সরকার নিজে নির্ধারণ করে দিয়ে চালের দাম কোন রেঞ্জের মধ্যে ঘুরাফিরা করবে এর উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া।  ৫। এটা হল সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ। আগে বলা ব্যবস্থাগুলো নিবার পরেও যদি বাজারে চালের দাম সরকারের কাঙ্খিত রেঞ্জের বাইরে চলে যায় তাহলে এই ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেমন এক সপ্তাহে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সরকার ডিলারের মাধ্যমে ট্রাকে করে বাজারে চাল ছাড়বে, এভাবে সরাসরি চাল বেচবে। আর আগের কম দামে সে চাল বেচা শুরু করবে, চাল ছাড়তেই থাকবে যতক্ষণ বাজারের চালের দাম আগের দাম না নেমে আসবে। এই জায়গায়টায় হল আসল লড়াই। বাজারের মোট মজুদের চেয়ে সরকারের মজুদ সবসময় এত বেশি বলে এক পর্যায়ে বাজারের ব্যক্তি মজুতদার হেরে গিয়ে ভেগে যাবে।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার হিসাবে দশ-চোদ্দ লাখ (দশ লাখের নিচে না) টনের খাদ্য মজুদ থাকলে ব্যক্তি মজুতদার সরকারের কাছে হারবেই, ফলে তারা লাগতে আসে না। এই ব্যবস্থপনার নিয়ম ও মাপকাঠই সাব্যস্ত হয়েছিল আশির দশকের প্রথমার্ধ থেকে। কোন বড় ধর‍ণের বিপর্যয় ছাড়াই তা চলেছিল ২০০৭ সালের আগে পর্যন্ত। এই হিসাবে বলা যায় পুরানা রেশনিং ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা ছিল সফল। যদিও এটা ঠিক উঠিয়ে দেয়া নয়, বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে উঠিয়ে দেয়া। কিন্তু ব্যাপারটার তাতপর্য কী আসলে? একবাক্যে বললে, কমিউনিস্টরা বাজার ম্যানেজেবল নয় সিদ্ধান্তে গিয়ে বাজারকে অকেজো করে দিয়েছে, ভর্তুকীর এক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। আর এর বিকল্প হল, বাজার আবার ফিরিয়ে আনা। আর চাহিদা-যোগানের খেলায় সরকার নিজেই বাজারের সবচেয়ে বড় খেলোয়ার হিসাবে নেমে সব ছোট খেলোয়ারের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এটাকে আমরা এখন থেকে ‘বিকল্প বাজার ব্যবস্থা’ নামে চিনব।

 

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমান চালের বাজারের হাল এটা প্রমাণ করে যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিতভাবে কার্যকর ‘বিকল্প বাজার ব্যবস্থা’ আবার পরাজিত হয়েছে ব্যক্তি মজুতদারদের কাছে। আবার বলতে, এটা ঠিক যেমন ২০০৭ সালে পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু কেন পরাজিত হল?

 

দুবারের পরাজয়ে একটা কমন জিনিষ আছে, তা হল সরকারি চালের মজুদ দশ লাখ টনের অনেক নিচে নেমে যাওয়া; ২০০৭ সালে আইলা ঘুরণিঝরের পর এটা দেড় লাভ টনে নেমে গেছিলে। কিন্তু এর আগেই চাল আমাদানির সিদ্ধান্ত একেবারেই নেয়া হয় নাই। শুধু তাই না খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বের উপদেষ্টা প্রকাশ্যে টিভিতে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন যে সরকারি গুদামে মজুদের পরিমাণ মাত্র দেড় লাখ টন। আর সাথে এটাও বলা হয়ছিল এখন সরকারের নাকি কিছু করার নাই। 

আর এবারও মজুদের পরিমাণ তিন লাখ টনের নিচে নেমে গেছে।  এর অর্থ ব্যক্তি মজুতদারেরা বাজারের ডমিনেটিং কর্তা হয়ে যাবার সুযোগ নিয়েছে।  তবে আরও কারণও আছে। এছাড়া ২০০৭ সালে বাজারে হেরে যাওয়ার পরে রিকভারি করে সরকারের বাজারে ফিরে আসার জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ও সফল হয়েছিল যা বেঞ্চ মার্ক হয়ে আছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত সেসব বেঞ্চমার্ক বা অভিজ্ঞতা থেকে এবার শিক্ষা নেয়া হয় নাই।

 

সেটা হল, চাল আমদানির এলসি উন্মুক্ত করে দেয়া। কিন্তু তা করতে পারার পিছনে আর এক শর্ত মানতে হয়। তা হল, সরকারের হাতে যথেষ্ট বিদেশি মুদ্রা থাকতে হবে। ঘাটতি থাকলে হবে না। ব্যাপারটা আমরা তুলনা করতে পারি চুয়াত্তর সালের সাথেও। সেবার দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ কোষাগারে বিদেশি মুদ্রা ছিল না। যেটা কমিউনিস্ট পরিকল্পিত অর্থনীতির আর এক সাধারণ বৈশিষ্ট যে এরা সবাই সবসময় বিদেশি মুদ্রার বিপুল অভাবে থাকে। ফলে সেসময় খাদ্য আমদানি উন্মুক্ত দূরে থাক আমদানির এলসি খুলতে দেয়া যায় নাই। এখানে উন্মুক্ত বলতে যে নিয়মিত চাল আমদানিকারক নয় তাকেও আমদানির এলসি খুলতে দেয়া। যেইই আগ্রহি তাকেই এলসি খুলতে দেয়া হয়েছিল – এটাই ছিল ক্রাইটেরিয়া। কেন? তাতে কী সুবিধা পাওয়া গেছিল?

যখনই আমাদের দেশে চালের অভাব হয় তখন পড়শি রাষ্ট্রগুলো সরকারি পর্যায়ে চাল বেচতে আর দরদাম্ম ঠিক করতে নানান গড়িমশি করে, সিদ্ধান্ত নিতে প্রচুর দেরি করে থাকে। আর এসব বাধাকে উপেক্ষা করার ভাল উপায় হল আমাদের ব্যক্তি ব্যবসায়ি লেলায় দিয়ে ওদের ব্যক্তি ব্যবসায়ীর কাছে থেকে দ্রুত চাল কিনে আনা। এছাড়া কম দামে তারা চাল আমদানি করতে পারে। ব্যক্তি ব্যবসায়ীরা যদি প্রতি টন ৩৮৪ ডলারে আনে তবে সরকারি পর্যায়ে ওর দাম ৪৫০ ডলারের নিচে হবে না। এসব বাধা টপকানোর সবচেইয়ে ভাল মেকানিজম হল চাল আমদানির এলসি উন্মুক্ত করে দেয়া। ২০০৭ সালে তো ভারতের সরকারি পর্যায়ে  প্রতিশ্রুতি দেয়া পাঁচ লাখ টন চাল আজও আনতে দেয়া হয় নাই। সব চালই আনা গেছিল ব্যক্তি পর্যায়ে। সেটাও ভারত সরকার এক পর্যায়ে বন্ধ করে দিয়েছিল কাস্টমসের নতুন আরোপিত নিষেরধাজ্ঞায় যে সার্কুলারে বলা হয়েছিল, ১০০০ ডলারের নিচে কোন এলসির রপ্তানি ছাড়পত্র থাকবে না।

২০০৭ সালের দ্বিতীয় বেঞ্চমার্ক সিদ্ধান্ত ছিল নতুন চালের সংগ্রহ মুল্য প্রসঙ্গে। এর আগে বোরো ধানের সরকারি সংগ্রহ মুল্য ২১-২২ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। চার মাসের মধ্যে বোরো ধান উঠতে শুরু করে। আর ঐবারই প্রথম থেকেই কোন দ্বিধা না রেখে সংগ্রহ মূল্য এক লাফে ২৮ টাকা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য একই। মজুতদার বা চালের মিলারদের চেয়ে বড় ক্রেতা হিসাবে বাজারে প্রবেশ করা ও তাদের হারিয়ে দিয়ে মুখ্য ক্রেতা হওয়া। এবারের সাথে একটা তুলনা করা যাক। এবারের বোরো চাল ক্রয় শুরু হয়েছিল মে মাসের শুরু থেকে, লক্ষ্য মাত্রা ছিল সাত লাখ টন। ২৫ জুন বনিক বার্তার রিপোর্ট লিখছে, সংগ্রহ অভিযান শুরুর একমাস ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রার এক% চালও সংগ্রহ করা যায় নাই। কেন? কারণ, ধানের সংগ্রহ মুল্য করা হয়েছিল ২৪ টাকা। এটা অত্যন্ত কম। আসলে সংগ্রহ মুল্য কম না বেশি তা অনুমানের পিছনে আর একটা ফ্যাক্টর আছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দেশের উতপাদিত চাল আমদানি চালের চেয়ে কম দাম পড়ে। কিন্তু আমাদের  চালের ‘বিকল্প বাজার ব্যবস্থা’ কোন বছর ফেল করার অর্থ হল ঐ বছর ব্যক্তি পর্যায়ে চাল আমদানি করতে দেয়া হয়েছে। আর এর ফলে ঐ বছর স্থানীয় উতপাদন খরচ নয় বরং আমদানির মুল্যই নির্ধারক হয়ে যায়  স্থানীয় চাল-ধান কি দামে বেচাকেনা হবে। অর্থাৎ সেটা স্বাভাবিক গত বছরের দামের চেয়ে বেশি হবে। এই বিচারে ৩৪ টাকা চালের সংগ্রহ মুল্য কিমি. বলে বিবেচিত হয়েছে। এটা সম্ভবত কম পক্ষে ৩৬ টাকা হতে হত। অর্থাৎ সরকারের গুদামে মজুত কম বলে তাকে আগ্রাসী দাম অফার করে বাজারে ঢুকতে হবে এই নীতি সরকার অনুসরণ করে নাই। এমনকি স্থানীয় সংগ্রহ করতে অক্ষম হলে তো তাকে নিজ সংগ্রহ মুল্যের চেয়েও বেশি দামে আমদানি করতে হবে। এই বিচারে আগেই সংগ্রহ মুল্য বেশি অফার করে রাখাটাই স্বাভাবিক হত। অথচ সেটা সরকার করে নাই।   

তৃতীয়ত, এর আগে কখনও চালের আমদানি শুল্ক কার্যকর ছিল বলে জানা যায় না। তবে হতে পারে অযথা ব্যক্তি আমদানী ঠেকাতে ৩০% শুল্ক আরোপ করে রাখা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যখন আমদানি ছাড়া উপায়হীন অবস্তা হয়ে গেছে তখন শুল্ক কমাতে দ্বিধা ও দেরি করানো এক চরম অদক্ষতা ও অযোগ্যতা। এটাও এবার চালের দাম বাড়ার একটা কারণ।

চাল ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন দেশে চালের কোনো সংকট নেই এবং সারা দেশে ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় এক কোটি টন চাল আছে। এই অভিযোগ অযৌক্তিক। অবশ্যি চালের সংকট আছে। কারণ ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমাণই থাকুক, সরকারের গুদামে ১০-১৪ লাখ টন খাদ্য মজুদ থাকতে হত। আর একমাত্র তাতেই এই ‘বিকল্প বাজার ব্যবস্থা’ এটা কার্যকর থাকার কথা। কিন্তু তা রাখতে মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যার্থতা, এই সংকটে মন্ত্রণালয় আক্রান্ত।

এই বিচারে আমাদের চালের ‘বিকল্প বাজার ব্যবস্থা’ এই সিস্টেমটা চালানোর ক্ষেত্রে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী ব্যর্থ অযোগ্য। তুলনায় আগের খাদ্যমন্ত্রী (হাসিনার প্রথম পাচ বছরের)আব্দুর রাজ্জাক সফল ছিলেন। কারণ তিনি সিস্টেমটা বুঝেছিলেন।

 

গৌতম দাস

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com

Goutom Das

গৌতম দাস

বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন। ১৩ বছর যাবত আফ্রিকার নানা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জাতিসংঘের সাথে চাকুরি সুত্রে কাজকর্মে। তিরাশির ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক। অনুবাদ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র বিষয়ক লেখালেখি করছেন। প্রকাশিত বই: কার্ল মার্কসের জর্মান ভাবাদর্শ(অনুবাদ), আগামী প্রকাশনী এদেশে সমাজতন্ত্র ও বিপ্লবে কৃষকের ভূমিকার প্রশ্নে, প্রতিপক্ষ প্রকাশনী

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা