প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ আরও বেশি বিক্রি হতে পারত

মুনির আহমদ

এবারের বই মেলায় সাড়া জাগানো আরিফ আজাদের বই- ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ গতকাল বিকেলে কিছু অংশ পড়েছি। সুদৃঢ় যৌক্তিকতার শীতল পরশ বুলিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তায় কঠোর অবিশ্বাসী যে কারো চিন্তাকে যে সহজেই ঈমানের পথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, বইটিতে সেটা সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।

১৭৬ পৃষ্ঠা মানে ১১ ফর্মা পরিধির বইটির এক কপি উপহার পেয়েছি। উপহার দিতে ২৫০/- টাকা দিয়ে অতিরিক্ত আরো একটি কপি কিনেছি। প্রকাশনা শিল্পের সাথে জড়িত হওয়ায় মূল্যটা কেমন অযৌক্তিক বলেই মনে হলো।

হিসাব কষে দেখলাম, টেনেটুনে বাড়িয়ে বাড়িয়ে হিসাব ধরলেও বইটির মূদ্রণ খরচ ৫০/= টাকার উপরে কখনো যাবে না। লেখক রয়্যালিটি এবং প্রকাশক ও খুচরা বিক্রেতার মুনাফা মিলে আরো ৫০/= টাকা অতিরিক্ত ধরে অনায়াসেই বইটি খুচরা পর্যায়ে ১০০/= টাকা বিক্রয় করা যেত। এতে সহজেই প্রচুর সংখ্যক পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় চলে যেতো বইটি।

উদাহরণত: এখন এক মাসে ৫ হাজার কপি বিক্রি হলে, হৃাসকৃত মূল্যে তখন এক মাসে ২০ হাজার কপি বিক্রি হতে পারত। এখন ৫ হাজার কপি বিক্রি করে প্রকাশক যে মুনাফাটা হাতিয়ে নিচ্ছেন, তখন একই সময়ে ২০ হাজার কপি বিক্রি করেও সেই একই পরিমাণ মুনাফা গোলায় তুলতে পারতেন। মাঝখানে অতিরিক্ত আরো ১৫ হাজার পাঠকের হাতে অল্প দামে বইটি পৌঁছে যেতো এবং বর্তমানের ৫ হাজার পাঠককেও গলাকাটা মূল্যে বইটি কিনতে বাধ্য হতে হতো না। ৫০ টাকা খরচ করে যদি ২০০ টাকা লাভ তুলতে চায়, তবে সেটা তো মানা যায় না। প্রকাশক মহোদয় অসন্তুষ্ট হলেও কিছুই করার নেই। কাজ হোক না হোক, অনৈতিকতার তো প্রতিবাদ করতেই হবে।
কী বলবো, সর্বত্রই আবেগকে পুঁজি করে একটা পক্ষ ধান্ধাবাজিতে নামে, আর মূল্য দিতে হয় সাধারণ পাবলিককে।

একজন লেখকের স্বার্থকতা হচ্ছে, সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঠকের হাতে বই পৌঁছাতে পারা। আশাকরি, লেখক আরিফ আজাদ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। এতে তাঁর অগণিত ভক্ত ও পাঠককূল উপকৃত হবেন।।

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা