সম্প্রীতি রক্ষার দায় শুধু মুসলমানদের একার হবে কেন, সংখ্যালঘুদেরও থাকতে হবে

গত কয়েক বছর ধরে ইসলাম ধর্ম অবমাননার মতো জঘন্য অপকর্মের সাথে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের নাম আসছে। ইসলাম অবমাননার এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিতভাবে কয়েকবার সাম্প্রদায়িক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ইসলামী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রশাসনের (বিলম্বিত) কড়া পদক্ষেপের কারণে সংঘাত এড়ানো গেছে।


রোহিঙ্গা ইস্যু, সরকারের দোদুল্যমান অবস্থান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক সফর!

ষ্টত দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ পাচ্ছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জড়িত না করেই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্মা সফর তাই প্রমাণ করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দাবিই ছিল অনতিবিলম্বে ও চিরতরে সহিংসতা ও জাতিগত নিধন বন্ধ করা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সহিংসতার মুখে পালিয়ে রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করছে।


ও আলোর পথযাত্রী... এখানে থেমো না

স্ট্যাটাসের তারিখটা ছিল ১১ জুলাই। তারপর আর কোনো স্ট্যাটাস নেই। তারপর ১৫ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতই আমি ওকে ফোন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ও আর ফোন ধরেনি। বরং নরওয়ে থেকে আমাদের আরেক বন্ধুর ফোন আসে। জানায়, সে ভালো নেই। আমি তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকলে সে অবাক হয়ে আমাকে প্রশ্ন করে, Don't you know, our Bashobi left away?


বার্মায় কেউ মুসলমানকে নমিনেশন দেয় নাই কেন

মায়ানমারে জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হল বার্মিজ; অনেকে এদেরকে বামার বা বর্মানও বলে থাকে। এরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০%। বৃটিশ আমলেরও (১৮২৪ সালের) আগে থেকেই বার্মার সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠি বামার; এরাই নিজ জনগোষ্ঠির নামে দেশের নাম রেখেছিল বার্মা। বার্মিজ ছাড়া বার্মায় অন্যান্য আরও অসংখ্য জনগোষ্ঠি আছে, যেগুলোর মধ্যে একালে তালিকাভুক্ত বা ক্ষমতাসীন সরকার স্বীকৃত এমন জনগোষ্ঠি হল ১৩৫ টা। এরপরেও রোহিঙ্গারা এই ১৩৫ জনগোষ্ঠির ভিতরের একজন কেউ নয়। অর্থাৎ আগামিতে স্বীকৃতি পেলে রোহিঙ্গারা হবে সম্ভবত ১৩৬তম জনগোষ্ঠি।


পিনাক বাবু, বাংলাদেশের ঘাড় থেকে নামুন

সমস্যা হইলো পিনাক বাবু, সুসষমা স্বরাজ সহ সাউথ ব্লকের পরগাছা কূটনীতিকরা সব সময় ভুলে যায়, ভারতের সেভেন সিসটার্স ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। অভ্যন্তরীণ সমস্যা মিটানোর জন্য বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসার চিন্তা কেবল ভারতের মত বেকুব রাষ্ট্রই করতে পারবে।অন্য হিসাব আর নাই বা তুলি। বাংলাদেশের সমস্যা বাংলাদেশই সমাধান করবে।


মায়ানমার মন্ত্রীর বাংলাদেশে আগমন: যা করতে হবে বাংলাদেশকে

মায়ানমারের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে সোমবার সকালে বাংলাদেশে আসছেন। সরকার জানিয়েছে এটা কূটনৈতিক সফর। বাংলাদেশ অবশ্যই কূটনৈতিক আলাপ আলোচনার দরজা খোলা রাখবে এবং তাতে অংশগ্রহণের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকবে। কিন্তু, প্রশ্ন হল কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার জন্য অতি প্রাথমিক যে পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার, মায়ানমার সেটা করেছে কিনা?


চালের বাজারে সরকার নিয়ন্ত্রণ হারাল কেন

‘চড়া চালের বাজার’, 'চালের দাম নাগালের বাইরে' বা এর চরম অবস্থা ‘দুর্ভিক্ষ’ শব্দগুলোর ব্যবহার বাংলাদেশে কমবেশি লোপ পেতে শুরু করেছিল। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের পরবর্তিকালের সময় তুলনামূলক ভাল সময় কাটলেও দাম চড়া বা চালের অভাবের মত উল্লেখযোগ্য বছর ছিল ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরর প্রথম বছরে। ঐ বছরের মাইলষ্টোন বা রেকর্ড হল, মোটা চালের দাম ৪২ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া। এবার ২০১৭ সালে আবার অনাকাঙ্খিতভাবে চালের দাম চড়া বা চালের অভাবের অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর এবারের নতুন রেকর্ড হল মোটা চালের দাম বেনাপোল বন্দরেই ৪৮ টাকা বা এর উপরে উঠেছিল।


রোহিঙ্গা, সু কি ও একজন হিরোডেটাস!

আজ সু কি তাঁর মুখোশটি খুলে ফেলেছে। সেই একই মুখোশ পরতে আরেকজন হয়তো উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা ইতিহাসবিদরা কখনো একে, কখনো তাকে একবার উপরে উঠাবো, আরেকবার নীচে নামাবো। যে মা অাট সন্তানের মধ্যে সাত সন্তানকে হারিয়ে আহত একটি সন্তানকে নিয়ে শরনার্থী হিসাবে বাংলাদেশে পৌঁছেছে, আমরা ঐতিহাসিকরা তাদের কথা লিখি না।


ভারতের সাপ ও ওঝার কূটনীতি

সাপ ও ওঝা কূটনীতি। .মানে সাপ হয়ে কাউকে কামড়ানোর পরে আবার ওঝা হয়ে সেই বিষ নামাতে আসার ভান করা। কিন্তু এটা কী কূটনীতি হতে পারে? কুটনীতির মধ্যে বুদ্ধি, শঠতা, দুরদর্শীতা, কাছে ও দুরের স্বার্থ ইত্যাদি সবই থাকে। কিন্তু অন্তত সকাল বিকাল মিছা বলে ধরা খাওয়া বেকুব কেউ হয় না। অথচ ভারত তাই হয়েছে।


দুর্ভিক্ষের চাল: না কাড়া না আকাড়া

প্রিয় প্রতিবেশীও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাউল দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? এটাই দাঁড়াল যে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কেজি প্রতি চাউলের দাম ৪-৫ টাকা করে বেড়েছে। দোকানিরা বলছেন, এটাই শেষ নয়। এটা বাড়তেই থাকে। এর মানে কী দাঁড়ায়? যদি সরকার বাহাদুর চাউল যোগাড় করতে না পারে, তবে তো নিম্ন আয়ের লোকেরা চাল কিনতে না পেরে দুর্ভিক্ষের মতো অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে।


সৈয়দ মুজতবা অালী'র জন্মদিনে!

১৯৮৩ সালে যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলাম, প্রথম দিনেই আমাদের প্রধান শিক্ষক জনাব শামসুল হুদা আমাদের একটি গুপ্তধনের সন্ধান দিয়েছিলেন। স্যারের সেদিনের কথাটা আমাদের বন্ধুদের অনেকেই হয়তো ভাল বোঝে নাই অথবা গুরুত্ব দেয়নি। আমি দিয়েছিলাম। তিনি সেদিন বলেছিলেন যে স্কুলের একটি লাইব্রেরী আছে কিন্ত অব্যবহারে সেটা ঊঁইপোঁকার খাবার হচ্ছে। অনেক ঝামেলা স্বীকার করে একদিন আমি সেই গুপ্তধনের কাছে পৌঁছেছিলাম। আমি শুরু করিছিলাম শরৎচন্দ্র দিয়ে। আমার গোগ্রাসে বই পড়া দেখতে পেয়ে তিনি একদিন আমাকে সৈয়দ মুজতবা আলীর 'চাচা কাহিনী' দিয়ে বললেন, 'এটা পড়, তোর ভাল লাগবে'। তিনি ছিলেন আমার স্যারের প্রিয়য় একজন লেখক। সেই থেকে তাঁর লেখার সাথে পরিচয়। আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।


আশা করব বদরুদ্দিন উমর আমার কথা বুঝবেন

উমরের এমন মন্তব্য করা ভুল। কারণ এমন মন্তব্য উচিত না যা জনগণ থেকে তাদের বহু দূরে সরিয়ে দেয়, বিশেষত যারা আন্তরিক ভাবেই জনগণকে নিয়ে বৈপ্লবিক রূপান্তরের আশা করে। সমাজে কথা বলার কোন পরিসর গড়ে না তুলে এই প্রকার মন্তব্য চিরস্থায়ী বিভাজনের দিকে নিয়ে যায়।


মক্কায় মুহাম্মদ (সা.) এর নবজাগরণের ডাক

মুহাম্মদ (সাঃ) তারুণ্যকে উৎসাহিত করেছেন যৌক্তিক বিতর্কে অংশ নিতে; সংশয়বাদে উনার কোন আপত্তি ছিলো না;মুহাম্মদ (সাঃ) মনে করতেন, খুব নিশ্চিত হয়ে যাওয়া মানেই জ্ঞানার্জনের পথগুলোকে রুদ্ধ করে ফেলা। অজানা বা অদেখা মানেই অসম্ভব কিছু নয়; মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরের কোন বিষয় চট করে খারিজ করে দেয়াও অযৌক্তিক। এতো পরমতসহিষ্ণুতা ও সাম্যভাবনার আলোকবর্তিকা নিয়ে যে মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কার তারুণ্যের মনের আলোকসরণিতে হেঁটেছিলেন; তাঁর হাত ধরে একটি নবজাগরণের আগমন ছিলো সময়ের ব্যাপার।


ইরানের ঘাড়ে চড়ে ট্রাম্পের সৌদি সফর ও অস্ত্র বিক্রি

চলতি মে মাসের ২০-২১ তারিখে আমরা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে পেলাম এক রাজকীয় সফরে সৌদি আরবে। সেই একই ট্রাম্প, যিনি গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ নিয়েই তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘মুসলিম ব্যান’ বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করবেন। সেটা মুরোদে না কুলালেও অন্তত সাত মুসলমান দেশ থেকে রওনা দিয়ে এসে আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন তিনি। তবে তিনি তার এই আদেশ টিকাতে পারেননি। আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে এটা রদ হয়ে যায়, পরপর দু’বার। সেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরব সফরে গেছেন। সবই ভাগ্যের পরিহাস! কারণ প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার প্রথম বিদেশ সফর এই সৌদি আরবেই। কেন এই সফর?


এভাবে শিক্ষক হতে পারবেন না

এই ভিসি সম্ভবত জানেন না যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষার্থীর কবরও আছে; বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঐ শিক্ষার্থীদের নিজেদের ক্যাম্পাসে দাফন করতে আগ্রহী হওয়ায় তাদের পিতা-মাতা সন্তানের কবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিতে কোন আপত্তি করেন নাই। আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন ঐ দুইটি বাঁধানো কবর চোখে পরতো। জানিনা এখনো সেই কবর দু'টি আছে কিনা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই ভিডিও গুলা কি দেখছেন?

একজন মানুষকে শারীরিক ভাবে নিগৃহীত করার যে ক্রিমিনাল অফেন্স, এই শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রত্যক্ষ প্রমান সবার চোখের সামনে ঘুরতেছে। একটা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়া তছনছ করার চাক্ষুশ প্রমান এই ভিডিওগুলা। তান্ডব আর পেশী শক্তি দিয়া ঘটনার নিয়ন্ত্রন হাতে নেওয়ার এই সংস্কৃতি নিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কি ? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুর ঘটনার জন্য দায়ী করতে চান চিকিৎসকদের ... কিন্তু বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের এই তুলকালাম ঘটনার দায় কে নিবে...?


দেবী থেমিস বিতর্ক: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

দেবী থেমিসের মূর্তি সম্পর্কে শেখ হাসিনা তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন ঠিকই, এমনকি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও বলেছেন, কিন্তু মূর্তি প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে সরানো হয় নি। প্রধান বিচারপতি স্বয়ং নিজ সিদ্ধান্তে এই মূর্তি সরিয়েছেন। যে যুক্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।


ট্রাম্প আল্লাহর দূত: সৌদি বাদশাহ

সৌদি বাদশাহ বলেন, আমরা চাই মুসলমান মিসকিন দেশগুলোর অসহায় নাগরিকেরা দাসদাসীর কাজ করতে সৌদি আরবে আসুক। এমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ থাকলে মিসকিনেরা আর আমাদের মুসলিম গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে মানতে চায় না। ইরানের বিরুদ্ধে জোটে মিসকিন দেশগুলোকে পাশে পাচ্ছি; কারণ সৌদি আরবে তাদের লাখ লাখ নাগরিক কাজ করে দুটো পয়সা দেশে পাঠায়; তা দিয়ে তাদের ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ে। পরিসংখ্যানের জরির ফিতায় উন্নয়ন ঝিলিক দেয়। এখন সুড়সুড় করে মিসকিন দেশের সরকার প্রধানরা এসে আমাদের দলে ভিড়বে।


স্ট্যালিন কি কিরভকে হত্যা করেছিলেন?

বলা হয়, বিংশ শতাব্দীর সব থেকে রহস্যজনক হত্যাকান্ড ছিল সেটা। সেই হত্যার অভিযোগে এবং হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে অন্তত: ১১৭ জনকে সরাসরি প্রাণ দিতে হয়। বলশেভিক পার্টির অভ্যন্তরে কিরভকে স্ট্যালিনের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই বিবেচনা করা হতো। ১৯২৫ সালের ২৪তম পার্টি কংগ্রেসে লেনিনগ্রাদের পার্টি প্রতিনিধিরা জিনোভিয়েভের পক্ষ নিলে স্ট্যালিন জিনোভিয়েভকে সরিয়ে কমরেড কিরভকে স্ট্যালিনগ্রাদের দায়িত্ব দেন।


বাংলাদেশের “গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতি” মাপার ডাক্তার

এমনিতেই বৈধ-অবৈধের তর্ক আর এই ক্রাইটেরিয়াতে রাষ্ট্রের ভাল-মন্দ বিষয়কে বুঝার চেষ্টা খুবই নাবালকের কাজ। মনে রাখতে হবে একটা কালাকানুন বা কালো আইন – চরম দমনমূলক ও নিপীড়ন আইন হলেও সেটা বিদ্যমান সংবিধানের কারনে ‘বৈধ’ আইন হতে পারে; কোন অসুবিধা ছাড়াই। এই বৈধ-অবৈধ জাতীয় শঠ প্রশ্ন তুলে বাকশালের কুকীর্তি আড়াল করে বলেই মিজানুর রহমান খানকে বাকশালের দলবাজ সমর্থক বলছি।


মুহাম্মদ (সঃ)-এর মিস্টিক ঘরানার অনুশীলন (৩য় পর্ব)

শ্বাস-প্রশাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চীনের আধ্যাত্মিক সাধকদের চিন্তা ও শারীরিক সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতাকে নিয়ন্ত্রণের যে অনুশীলন প্রচলিত রয়েছে; হানিফদের সেই একই অনুশীলন ছিল; মুহাম্মদ শরীর-মনের সেই শক্তির সাযুজ্য আনতে মাঝে মধ্যেই ধ্যানমগ্ন হতে যেতেন হেরা গুহায়। কারণ মক্কানগরীর মানুষের পার্থিবমোহ, নির্বোধ অন্ধকার কলহপ্রিয়তায় তিনি মানসিকভাবে বিপন্ন বোধ করতেন। তিনি চাইতেন এদের আলোকিত করতে; কিন্তু কীভাবে করবেন তার কূলকিনারা করতে পারতেন না। তাই সুযোগ পেলেই হেরা গুহায় যেতেন; সেখানে ওঠা নামার যে চড়াই-উতরাই সেটাও ছিল ‘হানিফ’ ঘরানার কষ্ট সহিষ্ণুতার মাঝ দিয়ে অসীমকে আরাধনার অংশ। হেরা থেকে এসে মক্কা নগরীতে ঢুকেই মুহাম্মদ প্রথমেই কাবা গৃহটি প্রদক্ষিণ করতেন। তিনি পৌত্তলিকতার গৃহ কাবা আর তার অসীমতার সাধনার হেরা গুহার ভাবনার পার্থক্যগুলো খুঁজতে থাকেন মনে মনে।


চীন আসলে কী করছে, বাংলাদেশ কী করতে পারে

দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপারে চীনের আগ্রহের কারণ প্রথমত, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চীনের বাধাহীন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দেশটি বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন গড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে যার ৮০ শতাংশ দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাক্কা প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। তা ছাড়া চীন প্রতি বছর আনুমানিক দুই ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য এই রুটে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করে।


চীনের ‘বেল্ট ও রোড উদ্যোগের’ বিরাট আয়োজন

গত ২০১৩ সালে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে এই আইডিয়া প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামি ১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে ‘বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’ (আগের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কে কেন্দ্র করে এই সম্মেলনের নাম) এই মেগাপ্রকল্পের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ২৮ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এতে যোগদান নিশ্চিত করেছেন। ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধান বলতে রাশিয়ার পুতিন ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত তবে কম গুরুত্বপুর্ণ অনেকে রাষ্ট্রপ্রধান আছেন। আর দুনিয়ার বড় অর্থনীতির উপর দিক থেকে সাতটা রাষ্ট্র হিসাবে তাদের ক্লাব জি-৭ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ইতালীর প্রধানমন্ত্রীই সেখানে থাকছেন। তবে তাই বলে বৃটেন, জর্মানী বা ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই তিন মূল মাতবর এই সম্মেলন ঠিক বর্জন করছেন তা নয়, তবে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের বদলে অন্য কোন মন্ত্রী হাজির থাকছেন।


মক্কা থেকে দামেস্ক: মুহাম্মদ (দ.) এর চিন্তার উৎকর্ষের ভ্রমণ

মুহাম্মদ (দ.) ফলিত ব্যবসা প্রশাসনে নিখুঁত একজন ব্যবস্থাপক হয়ে ওঠেন। মক্কার যেসব ব্যবসায়ীর পরিবহণ ব্যবসা আছে তাদের সবারই মুহাম্মদকে (দ.) বিজনেস ম্যানেজার হিসেবে পাওয়া ছিলো সৌভাগ্যের ব্যাপার। সততা, পেশাদারিতার সম্মিলনে মুহাম্মদ (দ.) তখন মক্কায় প্রিয় মুখ। সুবিধা বঞ্চিত মানুষ থেকে ব্যবসায়িক নিও এলিট শ্রেণী সবাই মুহাম্মদের (দ.) প্রতি অনুরক্ত। কারণ ঐ যে; যে মানুষের নিজের পাওয়া না পাওয়ার হিসেব থাকে না; অথচ অনায়াসে পাশে মানুষের দাঁড়ানোর মানবিকতা থাকে; তাকে মানুষ ভালবেসে ফেলে মনের অজান্তে।


'নোরা', 'অান্না' বা একজন 'নিলুফার জেসমিন

অান্না অাত্মহত্যা করেছিল। নিলুফার হয়তো তার কিছুই করবেন না। বরং এই সম্ভাবনা অাছে যে তিনি শেষ পর্যন্ত লম্পট স্বামী বা ধর্ষক সন্তানটির পক্ষ নিয়েই কাজ করবেন। তিনি হয়তো নিজেকেও চিনেন না বা হতে পারে নারী হয়েও তিনি পুরুষতন্ত্রেরই প্রতিনিধি। তবে তিনিও বন্দি, পুরুষতন্ত্রের কাছে, পুঁজিবাদের কাছে। তাহলে নারীর মুক্তি কোথায়?


ট্রাম্পের ১০০ দিন পার হল

গত ২৯ এপ্রিল ২০১৭, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার ক্ষমতার ১০০ দিন পুর্ণ হয়ে গেল। তিনি শপথ গ্রহণ করেছিলেন এবছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি। লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ইকোনমিস্ট বলছে, ‘আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ১০০ দিনের কাজ ও তৎপরতা মাপা ব্যাপারটা খুবই চাতুর্যপুর্ণ (ট্রিকি)’। কথা সঠিক।


মহানবী (দ.): মরুভূমির বিশালতার কাছে মানুষের ক্ষুদ্রতার বোধ (এক)

মরুভূমির বিশালতার কাছে মানুষের ক্ষুদ্রতার যে বোধ তা বেদুইন পল্লীর প্রতিটি মানুষকে বিনয়ী ও উদার করে তুলতো। এদের উপার্জনের উৎস ছিল উট, ঘোড়া, ছাগল প্রতিপালন সঞ্জাত। ফলে প্রাণীর সঙ্গে প্রাণের সখ্য ছিল। বেদুইন সমাজের এই নিসর্গের কাছে আত্মসমর্পণ, প্রাণী ও প্রাণের প্রতি ভালবাসা, সাম্যভাবনা, অতীন্দ্রিয় সত্য-সুন্দর-মঙ্গলের উপর নির্ভরতা-এসবই মুহাম্মদের মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করে।


হন্তারক সমাজ, হন্তারক শিক্ষা

সমাজের আধিপত্যশীল চিন্তা বলে, তুমি অযোগ্য।অযোগ্যদের কোন জায়গা নেই,কোন সন্মান নেই,কোন প্রয়োজন নেই।তুমি অযোগ্য, তুমি গেট আউট।আধিপত্যশীল চিন্তার এই নিষ্ঠুর বার্তাটি আমাদের সংবেদন শীল বাচ্চারা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছে। বাচ্চারা সেই গেট আউটের খপ্পরে পড়ে নিজেকে সমাজ থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।


“কাশেম বিন আবুবাকার” আসিতেছে

পাঠকের কাছে একটা আবেদন রাখব, কাশেম বিন আবুবাকারের কোন একটা উপন্যাস অন্তত তার ফুটন্ত গোলাপ না পড়ে তাকে নিয়ে মন্তব্য করবেন না, অংশগ্রহণ করবেন না, কাউকে শুনবেনও না। এরপর নিজের মুল্যায়ন নিজে করেন। সেই মুল্যায়নের স্বপক্ষে তর্ক -বিতর্কের ঝড় তোলেন।


ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা ও সমাজভাবনা

বর্তমান সমাজের চিত্র এর পুরো উল্টো।এখনের সমাজে মানুষের মাঝে "আমি ও আমার" চিন্তা অনুপ্রবেশ করেছে।সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত।ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে নিয়েছে এবং প্রকৃত অর্থের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।আমি কী করলাম, আমার কতটুকু হলো– এসবের হিসেব কষতেই জীবন পার হয়ে যায়।সমাজের কথা, সমাজের মানুষের কথা, তাদের সুখ-দুঃখের কথা হৃদয়ে জাগ্রত হয় না।দাগ কাটে না, রেখাপাত করে না আমাদের বিবেক-মননে।মানবিকতা ও সামাজিকতা এখন শুধু শব্দেই সীমাবদ্ধ।

তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির মিছিলে পুলিশের বাঁধা
সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা