রোহিঙ্গা, সু কি ও একজন হিরোডেটাস!

আজ সু কি তাঁর মুখোশটি খুলে ফেলেছে। সেই একই মুখোশ পরতে আরেকজন হয়তো উন্মুখ হয়ে আছে। আমরা ইতিহাসবিদরা কখনো একে, কখনো তাকে একবার উপরে উঠাবো, আরেকবার নীচে নামাবো। যে মা অাট সন্তানের মধ্যে সাত সন্তানকে হারিয়ে আহত একটি সন্তানকে নিয়ে শরনার্থী হিসাবে বাংলাদেশে পৌঁছেছে, আমরা ঐতিহাসিকরা তাদের কথা লিখি না।


ভারতের সাপ ও ওঝার কূটনীতি

সাপ ও ওঝা কূটনীতি। .মানে সাপ হয়ে কাউকে কামড়ানোর পরে আবার ওঝা হয়ে সেই বিষ নামাতে আসার ভান করা। কিন্তু এটা কী কূটনীতি হতে পারে? কুটনীতির মধ্যে বুদ্ধি, শঠতা, দুরদর্শীতা, কাছে ও দুরের স্বার্থ ইত্যাদি সবই থাকে। কিন্তু অন্তত সকাল বিকাল মিছা বলে ধরা খাওয়া বেকুব কেউ হয় না। অথচ ভারত তাই হয়েছে।


দুর্ভিক্ষের চাল: না কাড়া না আকাড়া

প্রিয় প্রতিবেশীও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাউল দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল? এটাই দাঁড়াল যে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কেজি প্রতি চাউলের দাম ৪-৫ টাকা করে বেড়েছে। দোকানিরা বলছেন, এটাই শেষ নয়। এটা বাড়তেই থাকে। এর মানে কী দাঁড়ায়? যদি সরকার বাহাদুর চাউল যোগাড় করতে না পারে, তবে তো নিম্ন আয়ের লোকেরা চাল কিনতে না পেরে দুর্ভিক্ষের মতো অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারে।


সৈয়দ মুজতবা অালী'র জন্মদিনে!

১৯৮৩ সালে যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলাম, প্রথম দিনেই আমাদের প্রধান শিক্ষক জনাব শামসুল হুদা আমাদের একটি গুপ্তধনের সন্ধান দিয়েছিলেন। স্যারের সেদিনের কথাটা আমাদের বন্ধুদের অনেকেই হয়তো ভাল বোঝে নাই অথবা গুরুত্ব দেয়নি। আমি দিয়েছিলাম। তিনি সেদিন বলেছিলেন যে স্কুলের একটি লাইব্রেরী আছে কিন্ত অব্যবহারে সেটা ঊঁইপোঁকার খাবার হচ্ছে। অনেক ঝামেলা স্বীকার করে একদিন আমি সেই গুপ্তধনের কাছে পৌঁছেছিলাম। আমি শুরু করিছিলাম শরৎচন্দ্র দিয়ে। আমার গোগ্রাসে বই পড়া দেখতে পেয়ে তিনি একদিন আমাকে সৈয়দ মুজতবা আলীর 'চাচা কাহিনী' দিয়ে বললেন, 'এটা পড়, তোর ভাল লাগবে'। তিনি ছিলেন আমার স্যারের প্রিয়য় একজন লেখক। সেই থেকে তাঁর লেখার সাথে পরিচয়। আগামীকাল তাঁর জন্মদিন।


আশা করব বদরুদ্দিন উমর আমার কথা বুঝবেন

উমরের এমন মন্তব্য করা ভুল। কারণ এমন মন্তব্য উচিত না যা জনগণ থেকে তাদের বহু দূরে সরিয়ে দেয়, বিশেষত যারা আন্তরিক ভাবেই জনগণকে নিয়ে বৈপ্লবিক রূপান্তরের আশা করে। সমাজে কথা বলার কোন পরিসর গড়ে না তুলে এই প্রকার মন্তব্য চিরস্থায়ী বিভাজনের দিকে নিয়ে যায়।


মক্কায় মুহাম্মদ (সা.) এর নবজাগরণের ডাক

মুহাম্মদ (সাঃ) তারুণ্যকে উৎসাহিত করেছেন যৌক্তিক বিতর্কে অংশ নিতে; সংশয়বাদে উনার কোন আপত্তি ছিলো না;মুহাম্মদ (সাঃ) মনে করতেন, খুব নিশ্চিত হয়ে যাওয়া মানেই জ্ঞানার্জনের পথগুলোকে রুদ্ধ করে ফেলা। অজানা বা অদেখা মানেই অসম্ভব কিছু নয়; মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরের কোন বিষয় চট করে খারিজ করে দেয়াও অযৌক্তিক। এতো পরমতসহিষ্ণুতা ও সাম্যভাবনার আলোকবর্তিকা নিয়ে যে মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কার তারুণ্যের মনের আলোকসরণিতে হেঁটেছিলেন; তাঁর হাত ধরে একটি নবজাগরণের আগমন ছিলো সময়ের ব্যাপার।


ইরানের ঘাড়ে চড়ে ট্রাম্পের সৌদি সফর ও অস্ত্র বিক্রি

চলতি মে মাসের ২০-২১ তারিখে আমরা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখতে পেলাম এক রাজকীয় সফরে সৌদি আরবে। সেই একই ট্রাম্প, যিনি গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ নিয়েই তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘মুসলিম ব্যান’ বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করবেন। সেটা মুরোদে না কুলালেও অন্তত সাত মুসলমান দেশ থেকে রওনা দিয়ে এসে আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন তিনি। তবে তিনি তার এই আদেশ টিকাতে পারেননি। আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে এটা রদ হয়ে যায়, পরপর দু’বার। সেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরব সফরে গেছেন। সবই ভাগ্যের পরিহাস! কারণ প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার প্রথম বিদেশ সফর এই সৌদি আরবেই। কেন এই সফর?


এভাবে শিক্ষক হতে পারবেন না

এই ভিসি সম্ভবত জানেন না যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষার্থীর কবরও আছে; বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঐ শিক্ষার্থীদের নিজেদের ক্যাম্পাসে দাফন করতে আগ্রহী হওয়ায় তাদের পিতা-মাতা সন্তানের কবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিতে কোন আপত্তি করেন নাই। আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন ঐ দুইটি বাঁধানো কবর চোখে পরতো। জানিনা এখনো সেই কবর দু'টি আছে কিনা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এই ভিডিও গুলা কি দেখছেন?

একজন মানুষকে শারীরিক ভাবে নিগৃহীত করার যে ক্রিমিনাল অফেন্স, এই শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রত্যক্ষ প্রমান সবার চোখের সামনে ঘুরতেছে। একটা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়া তছনছ করার চাক্ষুশ প্রমান এই ভিডিওগুলা। তান্ডব আর পেশী শক্তি দিয়া ঘটনার নিয়ন্ত্রন হাতে নেওয়ার এই সংস্কৃতি নিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কি ? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী আফিয়া জাহিন চৈতীর মৃত্যুর ঘটনার জন্য দায়ী করতে চান চিকিৎসকদের ... কিন্তু বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের এই তুলকালাম ঘটনার দায় কে নিবে...?


দেবী থেমিস বিতর্ক: প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

দেবী থেমিসের মূর্তি সম্পর্কে শেখ হাসিনা তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন ঠিকই, এমনকি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও বলেছেন, কিন্তু মূর্তি প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে সরানো হয় নি। প্রধান বিচারপতি স্বয়ং নিজ সিদ্ধান্তে এই মূর্তি সরিয়েছেন। যে যুক্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই।


ট্রাম্প আল্লাহর দূত: সৌদি বাদশাহ

সৌদি বাদশাহ বলেন, আমরা চাই মুসলমান মিসকিন দেশগুলোর অসহায় নাগরিকেরা দাসদাসীর কাজ করতে সৌদি আরবে আসুক। এমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ থাকলে মিসকিনেরা আর আমাদের মুসলিম গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে মানতে চায় না। ইরানের বিরুদ্ধে জোটে মিসকিন দেশগুলোকে পাশে পাচ্ছি; কারণ সৌদি আরবে তাদের লাখ লাখ নাগরিক কাজ করে দুটো পয়সা দেশে পাঠায়; তা দিয়ে তাদের ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ে। পরিসংখ্যানের জরির ফিতায় উন্নয়ন ঝিলিক দেয়। এখন সুড়সুড় করে মিসকিন দেশের সরকার প্রধানরা এসে আমাদের দলে ভিড়বে।


স্ট্যালিন কি কিরভকে হত্যা করেছিলেন?

বলা হয়, বিংশ শতাব্দীর সব থেকে রহস্যজনক হত্যাকান্ড ছিল সেটা। সেই হত্যার অভিযোগে এবং হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে অন্তত: ১১৭ জনকে সরাসরি প্রাণ দিতে হয়। বলশেভিক পার্টির অভ্যন্তরে কিরভকে স্ট্যালিনের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই বিবেচনা করা হতো। ১৯২৫ সালের ২৪তম পার্টি কংগ্রেসে লেনিনগ্রাদের পার্টি প্রতিনিধিরা জিনোভিয়েভের পক্ষ নিলে স্ট্যালিন জিনোভিয়েভকে সরিয়ে কমরেড কিরভকে স্ট্যালিনগ্রাদের দায়িত্ব দেন।


বাংলাদেশের “গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতি” মাপার ডাক্তার

এমনিতেই বৈধ-অবৈধের তর্ক আর এই ক্রাইটেরিয়াতে রাষ্ট্রের ভাল-মন্দ বিষয়কে বুঝার চেষ্টা খুবই নাবালকের কাজ। মনে রাখতে হবে একটা কালাকানুন বা কালো আইন – চরম দমনমূলক ও নিপীড়ন আইন হলেও সেটা বিদ্যমান সংবিধানের কারনে ‘বৈধ’ আইন হতে পারে; কোন অসুবিধা ছাড়াই। এই বৈধ-অবৈধ জাতীয় শঠ প্রশ্ন তুলে বাকশালের কুকীর্তি আড়াল করে বলেই মিজানুর রহমান খানকে বাকশালের দলবাজ সমর্থক বলছি।


মুহাম্মদ (সঃ)-এর মিস্টিক ঘরানার অনুশীলন (৩য় পর্ব)

শ্বাস-প্রশাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চীনের আধ্যাত্মিক সাধকদের চিন্তা ও শারীরিক সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতাকে নিয়ন্ত্রণের যে অনুশীলন প্রচলিত রয়েছে; হানিফদের সেই একই অনুশীলন ছিল; মুহাম্মদ শরীর-মনের সেই শক্তির সাযুজ্য আনতে মাঝে মধ্যেই ধ্যানমগ্ন হতে যেতেন হেরা গুহায়। কারণ মক্কানগরীর মানুষের পার্থিবমোহ, নির্বোধ অন্ধকার কলহপ্রিয়তায় তিনি মানসিকভাবে বিপন্ন বোধ করতেন। তিনি চাইতেন এদের আলোকিত করতে; কিন্তু কীভাবে করবেন তার কূলকিনারা করতে পারতেন না। তাই সুযোগ পেলেই হেরা গুহায় যেতেন; সেখানে ওঠা নামার যে চড়াই-উতরাই সেটাও ছিল ‘হানিফ’ ঘরানার কষ্ট সহিষ্ণুতার মাঝ দিয়ে অসীমকে আরাধনার অংশ। হেরা থেকে এসে মক্কা নগরীতে ঢুকেই মুহাম্মদ প্রথমেই কাবা গৃহটি প্রদক্ষিণ করতেন। তিনি পৌত্তলিকতার গৃহ কাবা আর তার অসীমতার সাধনার হেরা গুহার ভাবনার পার্থক্যগুলো খুঁজতে থাকেন মনে মনে।


চীন আসলে কী করছে, বাংলাদেশ কী করতে পারে

দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাপারে চীনের আগ্রহের কারণ প্রথমত, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চীনের বাধাহীন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দেশটি বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন গড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে যার ৮০ শতাংশ দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাক্কা প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। তা ছাড়া চীন প্রতি বছর আনুমানিক দুই ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য এই রুটে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করে।


চীনের ‘বেল্ট ও রোড উদ্যোগের’ বিরাট আয়োজন

গত ২০১৩ সালে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে এই আইডিয়া প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামি ১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে ‘বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভ’ (আগের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কে কেন্দ্র করে এই সম্মেলনের নাম) এই মেগাপ্রকল্পের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ২৮ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এতে যোগদান নিশ্চিত করেছেন। ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধান বলতে রাশিয়ার পুতিন ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত তবে কম গুরুত্বপুর্ণ অনেকে রাষ্ট্রপ্রধান আছেন। আর দুনিয়ার বড় অর্থনীতির উপর দিক থেকে সাতটা রাষ্ট্র হিসাবে তাদের ক্লাব জি-৭ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ইতালীর প্রধানমন্ত্রীই সেখানে থাকছেন। তবে তাই বলে বৃটেন, জর্মানী বা ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই তিন মূল মাতবর এই সম্মেলন ঠিক বর্জন করছেন তা নয়, তবে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের বদলে অন্য কোন মন্ত্রী হাজির থাকছেন।


মক্কা থেকে দামেস্ক: মুহাম্মদ (দ.) এর চিন্তার উৎকর্ষের ভ্রমণ

মুহাম্মদ (দ.) ফলিত ব্যবসা প্রশাসনে নিখুঁত একজন ব্যবস্থাপক হয়ে ওঠেন। মক্কার যেসব ব্যবসায়ীর পরিবহণ ব্যবসা আছে তাদের সবারই মুহাম্মদকে (দ.) বিজনেস ম্যানেজার হিসেবে পাওয়া ছিলো সৌভাগ্যের ব্যাপার। সততা, পেশাদারিতার সম্মিলনে মুহাম্মদ (দ.) তখন মক্কায় প্রিয় মুখ। সুবিধা বঞ্চিত মানুষ থেকে ব্যবসায়িক নিও এলিট শ্রেণী সবাই মুহাম্মদের (দ.) প্রতি অনুরক্ত। কারণ ঐ যে; যে মানুষের নিজের পাওয়া না পাওয়ার হিসেব থাকে না; অথচ অনায়াসে পাশে মানুষের দাঁড়ানোর মানবিকতা থাকে; তাকে মানুষ ভালবেসে ফেলে মনের অজান্তে।


'নোরা', 'অান্না' বা একজন 'নিলুফার জেসমিন

অান্না অাত্মহত্যা করেছিল। নিলুফার হয়তো তার কিছুই করবেন না। বরং এই সম্ভাবনা অাছে যে তিনি শেষ পর্যন্ত লম্পট স্বামী বা ধর্ষক সন্তানটির পক্ষ নিয়েই কাজ করবেন। তিনি হয়তো নিজেকেও চিনেন না বা হতে পারে নারী হয়েও তিনি পুরুষতন্ত্রেরই প্রতিনিধি। তবে তিনিও বন্দি, পুরুষতন্ত্রের কাছে, পুঁজিবাদের কাছে। তাহলে নারীর মুক্তি কোথায়?


ট্রাম্পের ১০০ দিন পার হল

গত ২৯ এপ্রিল ২০১৭, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার ক্ষমতার ১০০ দিন পুর্ণ হয়ে গেল। তিনি শপথ গ্রহণ করেছিলেন এবছরের শুরুতে ২০ জানুয়ারি। লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ইকোনমিস্ট বলছে, ‘আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ১০০ দিনের কাজ ও তৎপরতা মাপা ব্যাপারটা খুবই চাতুর্যপুর্ণ (ট্রিকি)’। কথা সঠিক।


মহানবী (দ.): মরুভূমির বিশালতার কাছে মানুষের ক্ষুদ্রতার বোধ (এক)

মরুভূমির বিশালতার কাছে মানুষের ক্ষুদ্রতার যে বোধ তা বেদুইন পল্লীর প্রতিটি মানুষকে বিনয়ী ও উদার করে তুলতো। এদের উপার্জনের উৎস ছিল উট, ঘোড়া, ছাগল প্রতিপালন সঞ্জাত। ফলে প্রাণীর সঙ্গে প্রাণের সখ্য ছিল। বেদুইন সমাজের এই নিসর্গের কাছে আত্মসমর্পণ, প্রাণী ও প্রাণের প্রতি ভালবাসা, সাম্যভাবনা, অতীন্দ্রিয় সত্য-সুন্দর-মঙ্গলের উপর নির্ভরতা-এসবই মুহাম্মদের মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করে।


হন্তারক সমাজ, হন্তারক শিক্ষা

সমাজের আধিপত্যশীল চিন্তা বলে, তুমি অযোগ্য।অযোগ্যদের কোন জায়গা নেই,কোন সন্মান নেই,কোন প্রয়োজন নেই।তুমি অযোগ্য, তুমি গেট আউট।আধিপত্যশীল চিন্তার এই নিষ্ঠুর বার্তাটি আমাদের সংবেদন শীল বাচ্চারা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছে। বাচ্চারা সেই গেট আউটের খপ্পরে পড়ে নিজেকে সমাজ থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।


“কাশেম বিন আবুবাকার” আসিতেছে

পাঠকের কাছে একটা আবেদন রাখব, কাশেম বিন আবুবাকারের কোন একটা উপন্যাস অন্তত তার ফুটন্ত গোলাপ না পড়ে তাকে নিয়ে মন্তব্য করবেন না, অংশগ্রহণ করবেন না, কাউকে শুনবেনও না। এরপর নিজের মুল্যায়ন নিজে করেন। সেই মুল্যায়নের স্বপক্ষে তর্ক -বিতর্কের ঝড় তোলেন।


ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা ও সমাজভাবনা

বর্তমান সমাজের চিত্র এর পুরো উল্টো।এখনের সমাজে মানুষের মাঝে "আমি ও আমার" চিন্তা অনুপ্রবেশ করেছে।সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত।ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে নিয়েছে এবং প্রকৃত অর্থের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।আমি কী করলাম, আমার কতটুকু হলো– এসবের হিসেব কষতেই জীবন পার হয়ে যায়।সমাজের কথা, সমাজের মানুষের কথা, তাদের সুখ-দুঃখের কথা হৃদয়ে জাগ্রত হয় না।দাগ কাটে না, রেখাপাত করে না আমাদের বিবেক-মননে।মানবিকতা ও সামাজিকতা এখন শুধু শব্দেই সীমাবদ্ধ।


সভ্যতার অত্যাবশ্যকীয় কিছু শর্ত

শর্তগুলো আমাদের সমাজে প্রবলভাবে অনুপস্থিত। বিপরীতে অসহিষ্ণুতা, হিংস্রতা, জাহেলিপনা গ্রাস করেছে আমাদের সমাজকে। এর পরিণতি কারো জন্যই সুখকর হবে না। আমাদের হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে গেছে, জ্ঞানের তৃষ্ণা আমাদের তৃষ্ণার্ত করে না। আমাদের মরম থেকে সমগ্র উধাও হয়ে যাচ্ছে। এখন খন্ডিত সত্তা নিয়ে মানবিক ভবিষ্যতের ছবি আঁকা দূর কল্পনা মাত্র।


এমন কেন!

অমুকের অশ্লীল ভিডিও বেরিয়েছে, সেটা তার চেহারা কি না তাই খতিয়ে দেখতে দেশের অর্ধেকের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আবার মাথায় উঠিয়ে ফেলছে। অবশ্যই, একজন নিরপরাধ সেলিব্রেটির এভাবে হেনস্থা হওয়া মানায় না। কিন্তু আয়েশার ধর্ষিত হওয়াটা আসলে তার প্রাপ্য, ও তো সেলিব্রেটি নয়। তাই ওর আত্মসম্মানও থাকতে নেই। অত্যন্ত সত্য কথা।


বাংলাদেশে ‘ভারতের সমর্থনের সরকার’ কাজ করবে না

তিস্তায় বা অন্য কোনো যৌথ নদীর বেলায় পানি, এটা তো বাড়তি; এই পানি ভারত কেন দেবে? অথবা ট্রানজিটের মূল্য কেন দেবে, বিনা পয়সায় পোর্ট ব্যবহার করতে পারবে না কেন, সীমান্তে লোক মারা বন্ধ করা ইত্যাদি। আগেই তো সরকারে সমর্থন দিয়ে রেখেছে! এক কথায় বললে সমর্থন দিয়ে সরকার ক্ষমতায় রাখার মূল্য এতই অমূল্য বা সীমাহীন হওয়ারই কথা। ফলে সেই অমূল্যদানের পরে এরপর আবার বাংলাদেশের আর কোনো মূল্য চাওয়ার আছে এটা তারা গণ্য করতে রাজি না হওয়ারই কথা।


ফ্যাক্ট চেক- মঙ্গল শোভযাত্রা: ধর্মের সাথে সম্পর্ক আছে কি?

ন্যদিকে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধীদের বক্তব্য হচ্ছে, এটি হিন্দু ধর্মের আচারনির্ভর। গত ১৩ এপ্রিল বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ফায়জুল্লাহ তাদের আপত্তির কারণ হিসেবে বলেন, "এখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তির সাথে পেঁচার মূর্তিও বহন করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে। আমরা মনে করি এটি নিছক একটি হিন্দু ধর্মীয় রীতি এবং এটি মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক করার অধিকার কারো নেই"।


নেপাল-ভারতের সীমান্ত হত্যা থেকে শিক্ষা

এতে স্বভাবতই ফুঁসে ওঠা নেপালি সাধারণ মানুষ, ভারতবিরোধী স্লোগান তুলে সারা নেপাল তোলপাড় করে ফেলেছে। পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠায় ভারত এক দিন পরই অবস্থান বদলায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে জানায়, তাদের অবস্থানের রেকর্ড ঠিক রাখার চেষ্টা হিসেবে এসএসবি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে । আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির হয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সহমর্মিতা জানান এবং তদন্ত করে দেখছেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। ইতোমধ্যে নেপাল সরকার গুলিতে নিহত গোবিন্দ গৌতমকে শহীদ ঘোষণা করে এবং পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কাঞ্চনপুর জেলার ডোডা নদীর তীরে তার সৎকারের আয়োজন শুরু করে।


'পহেলু খান' হত্যার প্রতিবাদ প্রগতিশীলদেরই প্রথম করা উচিত

অামি অবাক হই, এধরণের ঘটনায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে মাঠ গরম করার সুযোগ দিয়ে যারা প্রগতিশীল শিবির বলে দাবী করেন তারা দায়সারা গোছের একটি বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত দেন। তারা যদি জনগণের কাছে বিষয়গুলোর সত্যিকার কারণ ও উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির কুফলটি তুলে ধরতেন, তাতে জনগণের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে এগিয়ে নিতে পারতেন। কাজটি সহজ নয় জানি। এই ধরণের ঘটনা নিয়ে শোরগোল করলে মৌলবাদীদের উস্কানো হবে বলে 'সিপিবি' মার্কা চিন্তা থেকে বামদের বের হয়ে অাসা উচিত।


মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়া প্রশ্ন উঠা শুরু হইছে

মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়া যে আপত্তি আর প্রশ্ন উঠতেছে-- আমি মনে করি এই প্রশ্ন সামনের দিনগুলাতে আরও বেশি কইরা উঠবে। আমরা যদি মনে রাখি-- পূর্ব বাংলার এক মৌলিক পরিচয় হইতেছে বৃটিশ আমলে জমিদারের বিরুদ্ধে প্রজার লড়াই। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারনে যে প্রজা তার জমি হারাইছিল-- সেই জমি ফিরা পাওনের লাইগা প্রজার যে লড়াই-- এই লড়াই এর ডাক নাম হইলো 'মুসলমান'; --এই লড়াই থিকা মুসলমানদের উত্থান। এই মুসলমান-- এইটা একটা ফেনোমেনা-- সেইটা কারো ভাল লাগুক আর নাই লাগুক-- এইটাই ১৯৪৭ সালে দেশভাগ কইরা জমিদারকে জমিছাড়া করেছিল।

সম্পাদক: আবু মুস্তাফিজ

৩/১৯, ব্লক-বি, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা