মঈনুস সুলতান একসময় গল্প লিখতেন। কবিতায়ও হাত মশকো করেন কিছুকাল। বছর কয়েক আগে তার পয়লা জীবনে লেখা কিছু গল্প ও কবিতা দিয়ে দুটি বইও বেরিয়েছিল। নম্বই দশকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে লেখাপড়া করেন কয়েক বছর। এ দশকের শেষ পাঁচটি বছর কাটে তার ইন্দোচীনে। লাওস বলে। বিশ্ব পরিসরে স্বল্প পরিচিত দেশে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের দায়িত্ব পালন করেন। তখন দূরপাহাড়ের প্রকৃতিতে বিচ্ছিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের চালচিত্র নিয়ে রচনা করেন কিছু ভ্রমণ-গল্প। এ সময় পেশাগত কাজে বহুবার ভ্রমণ করেন ইন্দোচীনের অন্য দুটি দেশ–ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া। অধুনা প্রায় বিস্তৃত ভিয়েতনাম যুদ্ধের তৃণমূলে ইমপ্যাক্ট সম্পর্কে কিছু তথ্যও সংগ্রহ করেন।
অতঃপর সহস্রাব্দের সন্ধিক্ষণে ফিরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মফস্বল শহর অ্যামহার্স্টে। খণ্ডকালীন অধ্যাপনার পেশায় যুক্ত থাকেন ইউনিভারসিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেস নামক দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে। এ সময় শান্তির পদযাত্রায় যূথবদ্ধ মানুষের যুদ্ধবিরোধী কাফেলায় শরিক হন। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারি কায়েম হলে তিনি ফি বছর ওখানে যান পরিস্থিতি সবজমিন পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনে। পেশাগত অছিলা হিসেবে লিপ্ত থাকেন কখনো ভিজিটিং লেকচারার, কখনো প্রশিক্ষক কিংবা কনসালট্যান্ট হিসেবে।
লেখক বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া নগরীতে বাস করছেন। তিনি ভিজিটিং স্কলার হিসেবে ইউনিভারসিটি অব সাউথ আফ্রিকার সাথে যুক্ত আছেন।